ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গতকাল শুক্রবার সকালে ফোনে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে। এ সময় মোদি জানান, তিনি ‘ভালো খবর’ নিয়ে খুব শিগগির বাংলাদেশে আসবেন। দুই প্রধানমন্ত্রীর ফোনালাপে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা এবং অন্য দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়েও কথা হয়।
দুই প্রধানমন্ত্রীর ফোনালাপ ও ‘ভালো খবর’ নিয়ে মোদির বাংলাদেশ সফরের বিষয়টি জানায় বাংলাদেশের সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস। প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ আবদুল মালেক বাসসকে বলেন, মোদি টেলিফোন করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণ কামনা করেন এবং জানান যে তিনি শিগগিরই সুসংবাদসহ ঢাকা সফর করবেন।
মোদি নিজেও ক্ষুদ্র বার্তা আদান-প্রদানের সাইট টুইটারে টুইট করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীসহ দক্ষিণ এশিয়ার চার দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি জানান। শেখ হাসিনাকে মোদি বলেন, তিনি শিগগিরই বাংলাদেশে ‘ভালো খবর’ নিয়ে আসবেন। এই আলোচনায় বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা এবং অন্য দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়েও তাঁদের কথা হয়। মোদিই জানান, ভারতের নতুন পররাষ্ট্রসচিব এস জয়শঙ্কর শিগগিরই বাংলাদেশে আসবেন। তবে মোদি কবে ঢাকায় আসবেন, সে বিষয়ে ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, মার্চ মাসেই সেই সফর হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মোদি ‘ভালো খবর’-এর যে বার্তা দিয়েছেন, তার ব্যাখ্যা কী? ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের খবর, সেই ‘ভালো খবর’ সীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়ন হতে পারে। চলতি মাসের ২৩ তারিখ থেকে শুরু হচ্ছে ভারতের সংসদীয় অধিবেশন। এই অধিবেশনেই সে দেশের বাজেট পেশ ও পাস হয়। অধিবেশনের প্রথম পর্ব শেষ হবে ২০ মার্চ। এই সময়ের মধ্যেই সীমান্ত বিল বাস্তবায়নের জন্য ১১৯তম সংবিধান সংশোধন বিলটি দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে সংসদের দুই কক্ষেই পাস করাতে হবে। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস বিল পাসে রাজি হওয়ায় আর কোনো সংশয়ও থাকছে না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের মতে, বিল পাস করিয়েই প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে যাবেন। ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস। সেই দিনটিকেও প্রধানমন্ত্রী মোদি পছন্দ করতে পারেন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সৈয়দ আকবরউদ্দিন গতকাল জানান, ভারতের নতুন পররাষ্ট্রসচিব এস জয়শঙ্কর শিগগিরই পাকিস্তানসহ সব সার্ক দেশে যাবেন। আকবরউদ্দিন এই উদ্যোগকে ‘সার্ক যাত্রা’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, সার্ক সম্পর্ক জোরদার করাই এই সফরগুলোর মূল উদ্দেশ্য। তবে কূটনীতিক ও রাজনীতিকেরা যখন মিলিত হন, তখন দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়েও কথা হয়। এসব ক্ষেত্রেও তা-ই হবে।
মোদি ফোনে কথা বলেছেন বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী এবং আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে। আজ থেকে শুরু হওয়া বিশ্বকাপ ক্রিকেটে খেলছে ভারতসহ সার্কভুক্ত এই দেশগুলো। মোদি এসব দেশের নেতাদের সঙ্গে ফোনালাপে বিশ্বকাপে তাঁদের দলের সাফল্য কামনা করেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন