পলাতক চৌধুরী মুঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ সোমবার রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়েছে। যুক্তিতে রাষ্ট্রপক্ষ বলেছে, একাত্তরে আলবদরের অপারেশন ইনচার্জ ছিলেন মুঈনুদ্দীন এবং আশরাফুজ্জামান ছিলেন চিফ এক্সিকিউটর।
বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুক্তি দেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি সাহিদুর রহমান।
যুক্তিতে সাহিদুর রহমান বলেন, একাত্তরের ২৯ ডিসেম্বর ‘দৈনিক পূর্বদেশ’-এর প্রতিবেদন অনুসারে মুঈনুদ্দীন ১৯৭০ ও ৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্র ছিলেন। এ সময় তিনি মুহসিন হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন এবং ছাত্র সংঘ (জামায়াতের তত্কালীন ছাত্র সংগঠন) করতেন। ওই দিন ‘পূর্বদেশ’-এর প্রতিবেদনে মুঈনুদ্দীনের ছবি ছাপানো হয় এবং ক্যাপশনে বলা হয়, এই নরঘাতককে খুঁজে বের করতে হবে।
একই তারিখে ‘দৈনিক বাংলা’য় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে মুঈনুদ্দীনকে খুনি আলবদরের অপারেশন ইনচার্জ বলা হয়। ওই দিন অবজারভার-এর প্রতিবেদনেও মুঈনুদ্দীনকে আলবদরের অপারেশন ইনচার্জ বলা হয়েছে।
কৌঁসুলি বলেন, ১২ মে ১৯৭০-এর ‘সংগ্রাম’-এ ডাকসুর নির্বাচনের খবরে ছাত্র সংঘের প্রার্থীদের নাম দেওয়া হয়। সেখানে ঢাকসুর সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে আশরাফুজ্জামানের নাম উল্লেখ করা হয়। আশরাফুজ্জামানের পরিচয়ে বলা হয়, তিনি ওই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী স্টাডিজ বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ও মুহসিন হলের আবাসিক ছাত্র। একই বছরের ১৪ মে ‘সংগ্রাম’-এর আরেকটি প্রতিবেদনেও ডাকসুর নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে আশরাফুজ্জামানের ছবি ছাপা হয়।
সাহিদুর রহমান বলেন, ১৯৭২ সালের ১৩ জানুয়ারি প্রকাশিত ‘দৈনিক পূর্বদেশ’-এর প্রতিবেদনে আশরাফুজ্জামানকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করে বলা হয়, তিনি আলবদরের চিফ এক্সিকিউটর ছিলেন। এ ছাড়া আলবদর বইয়ে আশরাফুজ্জামানকে আলবদর নেতা হিসেবে উল্লেখ করা আছে।
যুক্তি উপস্থাপনকালে মুঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামানের বিরুদ্ধে আনা ষষ্ঠ অভিযোগের বিষয়ে সাহিদুর রহমান যুক্তি দেন। ষষ্ঠ অভিযোগ অনুসারে, একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বর সকাল আটটা থেকে পৌনে ১০টার মধ্যে মুঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামানের নেতৃত্বে পাঁচ-ছয়জনের একটি আলবদর দল অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক সিরাজুল হক খান, ড. মো. মুর্তজা, ড. আবুল খায়ের, ড. ফয়জুল মহিউদ্দিন, অধ্যাপক রাশিদুল হাসান, অধ্যাপক আনোয়ার পাশা ও অধ্যাপক সন্তোষ ভট্টাচার্যকে তাঁদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসভবন থেকে অপহরণ করে। ১৬ ডিসেম্বরের পর মিরপুর বধ্যভূমি থেকে ছয়জনের লাশ পাওয়া যায়। সিরাজুল হক খান ও ফয়জুল মহিউদ্দিনের লাশ পাওয়া যায়নি।
কৌঁসুলি বলেন, এই অভিযোগের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী গিয়াস উদ্দিনের বোন ফরিদা বানু, ভাগনি মাসুদা বানু, সিরাজুল হক খানের ছেলে এনামুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, ওমর হায়াত ও রাশিদুল ইসলাম সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাঁদের সবার সাক্ষ্যেই অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে মুঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামানের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সাক্ষ্যে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা এ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
ষষ্ঠ অভিযোগের বিষয়ে যুক্তি উপস্থাপন শেষে যুক্তি উপস্থাপন অসমাপ্ত অবস্থায় এ মামলার কার্যক্রম আগামীকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবি করেন ট্রাইব্যুনাল।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0