ময়মনসিংহে গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন স্থানে রাতে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ ও সরকারি কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। অথচ টানা অবরোধ ও হরতালে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও এত দিন ময়মনসিংহের পরিবেশ প্রায় শান্তিপূর্ণ ছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত রোববার থেকে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ময়মনসিংহ শহর, মুক্তাগাছা, ত্রিশাল, তারাকান্দা ও গৌরীপুর উপজেলায় সহিংসতার কয়েকটি ঘটনা ঘটে। গত রোববার রাতে ময়মনসিংহ শহরের টাঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীবাহী একটি বাসে দুর্বৃত্তরা পেট্রলবোমা মারে। এ সময় বাসের চারজন যাত্রী দগ্ধ হন।
গত সোমবার রাতে ময়মনসিংহের তারাকান্দা ও ত্রিশাল উপজেলায় দুটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। এতে কেউ হতাহত হয়নি। তবে ত্রিশালে বাসটি আগুনে পুড়ে যায়। এদিন মুক্তাগাছায় ১০ হাজার মুরগির বাচ্চা বহনকারী একটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন দেওয়া হয়।
গত মঙ্গলবার রাতে দুর্বৃত্তরা ময়মনসিংহ সদর উপজেলা ভূমি কার্যালয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ১০০ নথি। এ ছাড়া গত ১০ দিনে রাতে ময়মনসিংহ শহরের চরপাড়া, জিলা স্কুল সড়ক, গঙ্গাদাস গুহ সড়কসহ বিভিন্ন জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মো. ফজুলল করিম বলেন, দু-একটি বিছিন্ন ঘটনা ঘটলেও ময়মনসিংহে অাতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।
শহরের কয়েকজন ইজিবাইকচালকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অবরোধের প্রথম দিকে ৫ জানুয়ারি জিলা স্কুল মোড়ে পেট্রলবোমায় ইজিবাইকচালক সিদ্দিকুর রহমান দগ্ধ হন। সিদ্দিকুরের পরিবারের তথ্যমতে, তাঁর শরীরের ৪০ ভাগ পুড়ে গেছে। এক মাসের বেশি সময় ধরে তিনি ঢাকায় চিকিৎসাধীন। জীবিকার তাগিদে বের হলেও আতঙ্কে থাকেন বাকি ইজিবাইকচালকেরাও।
গত সোমবার ও মঙ্গলবার রাতে শহরের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখা গেছে, রাত নয়টার পর শহরের রাস্তাগুলো ফাঁকা। গত মঙ্গলবার রাতে শহরের ব্যস্ততম গাঙ্গিনারপাড় এলাকায় আহাম্মদ হোসেন বলেন, গত কয়েক দিনে বেশ কিছু নাশকতার খবর জানার পর রাতে বাইরে থাকতে ভয় লাগে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন