সুনামগঞ্জ পৌর শহরের বলাকাপাড়ায় আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ডলি আক্তার (২৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তাঁর স্বামী এমদাদুল হকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে সিআইডি।
এতে ডলি আক্তারের স্বামী এমদাদুল হক ছাড়াও তাঁর বাড়ির ভাড়াটে জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রনি ও বন্ধু আমির হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, এমদাদুল হক ডলি আক্তারকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। রড দিয়ে তাঁর শরীরে এলোপাতাড়ি আঘাত করার কারণে মৃত্যু হয়েছে গর্ভের সন্তানের। অন্য দুজন হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সুনামগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম (সদর) আদালতে এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মেহেরুন্নেসা পারুল। অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালের ৬ অক্টোবর রাতে শহরের বলাকাপাড়ায় এমদাদুল হকের নিজ ঘরে এ ঘটনা ঘটে। দা দিয়ে কুপিয়ে ডলি আক্তারকে গুরুতর আহত করা হয়। সেদিন সকালে তাঁকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই সঙ্গে মাথায় আঘাত নিয়ে সেখানে ভর্তি হন এমদাদুল। এরপর রাতে এমদাদের বড় ভাই আবদুল ওদুদ বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা করেন।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার তিন দিন পর ডলি আক্তার মারা যান। তিনি মারা যাওয়ার এক দিন আগে আট মাস বয়সী একটি মৃত সন্তানের জন্ম দেন।
সিআইডি এ ঘটনায় এমদাদুল হকের মেয়ে শোভা আক্তার ও ভাড়াটে জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে এই দুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। রনি আদালতকে জানিয়েছেন, ডলি আক্তারের মাথায় বঁটি দিয়ে আঘাত করেন এমদাদুল। তিনি সেটি দেখেছেন। আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রের একটি কপি সুনামগঞ্জ সদর থানার পুলিশকেও দেওয়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) হারুন অর রশিদ জানিয়েছেন, এটি শহরের একটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড। এমদাদুল হক নিজেই স্ত্রী-সন্তানকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্ত অন্য দুজন হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা করেছেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন