কনকনে শীত উপেক্ষা করে শার্ট গায়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের টিএ রোডের পাশে গতকাল সোমবার সকাল থেকে জুতা সেলাইয়ের সরঞ্জাম নিয়ে বসে ছিলেন পেশায় মুচি মাধব ঋষি দাস। কিন্তু বেলা একটায় তাঁর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তখন পর্যন্ত এক টাকাও রোজগার হয়নি তাঁর। ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বললেন, ‘হরতাল আমরার গরিবের ল্যাইগা অভিশাপ। এগুলা বড়লুকের ধান্দা।’
মাধব জানালেন, হরতাল না থাকলে এতক্ষণে শ খানেক টাকা রোজগার হয়ে যেত তাঁর। একই রাস্তার পশ্চিম পাশে কমলা নিয়ে বসেছিলেন কান্দিপাড়া এলাকার রহিছ মিয়া।
তিনি বলেন, হরতালে বিপদের আশঙ্কা সত্ত্বেও পেটের দায়ে রাস্তার পাশে কমলা নিয়ে বসে আছেন। কিন্তু সকাল থেকে মাত্র তিন-চার শ টাকার কমলা বিক্রি করেছেন। তিনিও মনে করেন, হরতাল না হলে এতক্ষণে তিন-চার হাজার টাকার কমলা বিক্রি হয়ে যেত তাঁর।
কুমারশীল মোড়, স্টেশন রোড, কাজীপাড়া, কাউতলীসহ বিভিন্ন এলাকার রিকশাচালকদের সঙ্গে গতকাল কথা হয়। জীবন মিয়া, মানিক মিয়া, আলতাফ হোসেন, খায়ের নামের কয়েকজন রিকশাচালক বলেন, পেটের তাগিদে এই শীতের সকালে তাঁরা রিকশা নিয়ে বের হয়েছেন। কিন্তু হরতাল সমর্থনকারীরা ধরতে পারলে তাঁদের গালিগালাজ করাসহ টায়ারের হাওয়া ছেড়ে দিচ্ছেন।
কাউতলী এলাকায় ইজিবাইকচালক ইদ্রিস মিয়া গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বলেন, দিন শেষে সাড়ে পাঁচ শ টাকা মালিককে দিতে হবে। অথচ তখনো বউনি করতে পারেননি।
শহরের ফকিরাপুল এলাকার ভ্যানগাড়িচালক রাসেল বলেন, ‘হরতাল মানেই আমাগো প্যাটে লাত্থি। সরকার, বিরোধী দল কারও তো আর কুনো ক্ষতি হয় না। হেরা আমাগো কষ্ট বুঝব কী।’
শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে গতকাল দেখা গেছে, শহরের প্রায় সব দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। বেলা একটার পর গাড়ি চলাচল বাড়তে থাকে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন