মাদকমুক্ত থাকতে পাশে আছে বন্ধুদল

>
  • এই সভার সদস্যরা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত নারকোটিকস অ্যানোনিমাস কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত।
  • তাঁরা সততা, মুক্ত মানসিকতা, সদিচ্ছাসহ এনএর মোট ১২টি ধাপ ব্যক্তিজীবনে মেনে চলছেন।

‘বাবার বাইপাস সার্জারি, আমি জানি না। মাদক কেনার টাকা আনার জন্য বাসায় গিয়ে জানতে পারি বাবার কথা। তারপরও কোনো অনুভূতি হয়নি। মাদক ছাড়ার পর আট বছর বাবা আমার সঙ্গে কথা বলেননি। সেই বাবা আজ আবার যখন হাসপাতালে ভর্তি হতে গেলেন, তখন প্রথম ফোনটি দিয়েছেন আমাকেই। বাবা এখন আমাকে যোগ্য সন্তান মনে করেছেন, এ প্রাপ্তির কোনো তুলনা হয় না।’

কথাগুলো যিনি বলছিলেন তিনি ১২ বছর ধরে মাদকমুক্ত জীবন যাপন করছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ট্রেনের নিচে পড়ে আত্মহত্যা করতে চেয়েছি তিনবার। এখন আমি ব্যবসা করি। বিয়ে করেছি। সন্তানের বাবা হতে যাচ্ছি। শুধু তা-ই নয়, ব্যবসা ও পরিবারকে সময় বেশি দেওয়ার জন্য ফেসবুক থেকেও দূরে থাকছি।’

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরায় একটি বাসার ছাদে মাদকমুক্ত দলের সভায় বসে এই ব্যক্তি বলছিলেন কথাগুলো। কথা শেষ হতে সবাই হাততালি দিয়ে স্বাগত জানালেন। এই সভায় অংশগ্রহণকারীরা পরিবার ও নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে নাম-পরিচয় প্রকাশ করেন না। প্রায় ১৭ বছর মাদকমুক্ত থাকা এক সদস্য জানালেন, দলের সভাগুলো নিয়মিতভাবে একই সময়, একই জায়গায় পরিচালিত হচ্ছে বছরের পর বছর ধরে। নিরাময়কেন্দ্র থেকে মাদকমুক্ত দলের কথা জানানো হয় বা ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরাই ওয়েবসাইট থেকে এই দলের সদস্যদের খুঁজে বের করেন।

এই সভার সদস্যরা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত নারকোটিকস অ্যানোনিমাস বা সংক্ষেপে এনএ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। ১৯৫৪ সাল থেকেই যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এ কার্যক্রম বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পেয়েছে। দেশে ২০০৫ সাল থেকে এনএ কার্যক্রমের অধীনে এ ধরনের বন্ধুদলের সভা পরিচালিত হচ্ছে। এ পর্যন্ত ঢাকা শহরে ১৫টি, চট্টগ্রামে ৫টি, সিলেট ও কুমিল্লায় ২টি, টাঙ্গাইল এবং সিরাজগঞ্জে ১টি করে দল কাজ করছে। দলের সক্রিয় সদস্য ৫০০ থেকে ৭০০ জন। তবে এখন পর্যন্ত সামাজিক কারণে দলে নারীর সংখ্যা একেবারেই হাতে গোনা। সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে দলের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আবেদন করা হয়েছে বলে জানালেন একজন।