মুঠোফোন অপারেটরদের সেবার মান যথাযথ নয়

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) গত ৬ নভেম্বর থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকায় এক জরিপ চালিয়ে দেখেছে, সব কটি অপারেটর কোনো না কোনো ক্ষেত্রে সেবার মানের দিক দিয়ে পিছিয়ে রয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গ্রামীণফোনের ক্ষেত্রে কলড্রপের হার ৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত মান ২ শতাংশ। অন্যদের কল ড্রপ নির্ধারিত সীমার চেয়ে কম।

আজ সোমবার এ-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করে বিটিআরসি। জরিপটি হয়েছে শুধু ঢাকায়। এতে দেখা যায়, কল সংযোগের ক্ষেত্রে সময় লাগার কথা সর্বোচ্চ ৭ সেকেন্ড। গ্রামীণফোনে তা ১০ সেকেন্ডের কিছু বেশি, রবিতে ৬ সেকেন্ডের কিছু বেশি, বাংলালিংকে ৭ দশমিক ৬৯ সেকেন্ড ও টেলিটকে ৭ সেকেন্ডের কিছু বেশি লাগে। এ ক্ষেত্রে সীমার মধ্যে রয়েছে শুধু রবি।

তৃতীয় প্রজন্ম বা থ্রি-জি ইন্টারনেট সেবায় ডাউনলোডের গতিসীমা সর্বনিম্ন ২ এমবিপিএস। এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে কেবল টেলিটক। চতুর্থ প্রজন্ম বা ফোর-জি ইন্টারনেটে কারও গতিই নির্ধারিত মান অনুযায়ী নয়। এ ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন গতি হওয়ার কথা ৭ এমবিপিএস, যা গ্রামীণফোনের আছে ৫ দশমিক ৮৮, রবির ৫ দশমিক ৯১ ও বাংলালিংকের ক্ষেত্রে ৫ দশমিক ১৮। সব কলের হার সবার ক্ষেত্রে নির্ধারিত মান অনুযায়ী আছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রবির হেড অব করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স শাহেদ আলম বলেন, ড্রাইভ টেস্ট টেলিযোগাযোগ সেবার মান পরিমাপের এমন একটি পদ্ধতি, যা দিয়ে একটি নির্দিষ্ট সময় ও স্থানে সেবার মান পরীক্ষা করা হয়, টেলিযোগাযোগ সেবার মানের সার্বিক চিত্র এতে উঠে আসে না। তিনি বলেন, ‘নিয়ন্ত্রক সংস্থা পরিচালিত ড্রাইভ টেস্টে যেসব তথ্য-উপাত্ত উঠে এসেছে, সেগুলোর বিস্তারিত আমরা পাইনি, তাই আমাদের পক্ষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করা কঠিন।’

এদিকে দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনকে মাসিক কল ড্রপের হার ২ শতাংশের মধ্যে নিয়ে আসতে বলেছে বিটিআরসি। সংস্থাটি গ্রামীণফোনকে চিঠি দিয়ে আরও তিনটি বিধিনিষেধ আরোপের কথা জানিয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ বাজার ক্ষমতা প্রবিধানমালার আওতায় এ নির্দেশনা দিয়েছে সংস্থাটি। এর আগে ১০ ফেব্রুয়ারি বিটিআরসি গ্রামীণফোনকে সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার (এসএমপি) বা তাৎপর্যপূর্ণ বাজার ক্ষমতাধর হিসেবে ঘোষণা করে।

বিটিআরসির নির্দেশনায় গ্রামীণফোনের ক্ষেত্রে অপারেটর বদলানোর সেবা বা মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটির (এমএনপি) ‘লক ইন পিরিয়ড’ বেঁধে দেওয়া হয়েছে ৩০ দিন। অর্থাৎ, কোনো গ্রাহক অন্য অপারেটর থেকে গ্রামীণফোনে গেলে তাঁকে সেখানে ৩০ দিন থাকতে হবে। বাকি অপারেটরগুলোর ক্ষেত্রে এ সময়সীমা ৯০ দিন।

নতুন বিধিনিষেধ অনুযায়ী, গ্রামীণফোন অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্বতন্ত্র ও একক স্বত্বাধিকার চুক্তি করতে পারবে না। দেশব্যাপী কোনো মাধ্যমে কোনো প্রকার মার্কেট কমিউনিকেশন বা বাজার প্রচারাভিযান করতে পারবে না।

বিটিআরসি গত নভেম্বরে তাৎপর্যপূর্ণ বাজারক্ষমতা প্রবিধানমালা জারি করে। এতেই কোনো মোবাইল অপারেটর গ্রাহকসংখ্যা, রাজস্ব অথবা তরঙ্গ—এ তিন ক্ষেত্রের একটিতে ৪০ শতাংশের বেশি বাজার হিস্যাধারী হলে এসএমপি অপারেটর হিসেবে ঘোষণার ক্ষমতা দেওয়া হয় বিটিআরসিকে, যার আওতায় পড়েছে গ্রামীণফোন।