শিক্ষার্থীদের 'হুমকি দেওয়া' ঢাবি শিক্ষককে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফার্মেসি অনুষদের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আবু সারা শামসুর রউফকে একটি ব্যাচের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগ ও শিক্ষার্থী সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের দুটি কোর্সের ফলাফলে সন্তুষ্ট হতে না পেরে কোর্স শিক্ষক আবু সারা শামসুর রউফের কাছে খাতা দেখতে চেয়েছিলেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। কিন্তু খাতা না দেখিয়ে সেই শিক্ষক উল্টো শিক্ষার্থীদের হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিভাগীয় প্রধান বরাবর একাধিক লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি। পরে উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন তাঁরা। অভিযোগের বিষয়ে করণীয় জানতে চেয়ে উপাচার্যকে চিঠি দেন বিভাগীয় প্রধানও।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশে এবং গতকাল মঙ্গলবার বিভাগের একাডেমিক কমিটির সভায় অধিকাংশ শিক্ষকের মতামতের ভিত্তিতে আবু সারা শামসুর রউফকে অভিযোগকারী ব্যাচের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়। ফার্মেসি অনুষদের ডিন অধ্যাপক এস এম আবদুর রহমান ও ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ সাব্বির হায়দারকে অভিযোগটি তদন্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর শ্রেণির ‘পিএচটি ৬০২’ ও ‘পিইচটি ৬০৬’ কোর্সের দ্বিতীয় ইনকোর্স পরীক্ষার ফলাফলে সন্তুষ্ট হতে না পেরে কোর্স শিক্ষক অধ্যাপক আবু সারা শামসুর রউফের কাছে খাতা দেখতে চেয়েছিলেন নয়জন শিক্ষার্থী। কিন্তু অধ্যাপক রউফ তাতে সম্মত হননি। উল্টো তাদের হুমকি দিয়েছেন অভিযোগ করে গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত বিভাগের চেয়ারম্যান বরাবর চারটি চিঠি দেন তাঁরা। এর মধ্যে বিভাগীয় চেয়ারম্যান নোটিশের মাধ্যমে অধ্যাপক রউফকে শিক্ষার্থীদের খাতা দেখানোর জন্য তাগাদা দিলেও কোনো প্রতিকার হয়নি। কোনো প্রতিকার না পেয়ে ১৪ নভেম্বর ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীরা বিষয়টি উপাচার্যের কাছে লিখিতভাবে জানান। অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে সমাধানে আসতে না পেরে করণীয় জানতে চেয়ে ১৭ নভেম্বর ফার্মেসি অনুষদের ডিনের মাধ্যমে উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামানকে চিঠি দেন বিভাগীয় চেয়ারম্যান। পরে উপাচার্যের নির্দেশে ও বিভাগের অধিকাংশ শিক্ষকের মতামতের ভিত্তিতে অধ্যাপক রউফকে গতকাল অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রথম আলোকে বলেন, যত দিন তদন্ত চলবে, তত দিন অভিযোগকারী ব্যাচের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অধ্যাপক রউফকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গতকাল ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের একাডেমিক কমিটির সভায় অধ্যাপক রউফকে নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে ভোটাভুটি হয়। সভা সূত্র জানায়, সভায় ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের ১৭ জন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। সেখানে অধ্যাপক রউফের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে গোপন ব্যালটে শিক্ষকদের মতামত নেওয়া হয়। তিনজন শিক্ষক ভোট দেননি। অন্য ১৪ জন শিক্ষকের মধ্যে ১৩ জন অধ্যাপক রউফকে বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার পক্ষে মত দেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অধ্যাপক আবু সারা শামসুর রউফের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে ১৬ সেপ্টেম্বর যখন শিক্ষার্থীরা তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় প্রধান বরাবর প্রথম অভিযোগটি করেছিলেন, সেদিন যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।’