মুন্সিগঞ্জে করোনার সংক্রমণ কমছে, বাড়ছে সুস্থতা

মুন্সিগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এদিন নতুন করে মারা যাননি কেউ। করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ২৪ জন। আজ মঙ্গলবার বিকেলে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভেন্টিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিনের (নিপসম) ল্যাব থেকে পাঠানো রিপোর্টে বলা হয়, ২১ ও ২২ জুন আসা ২৪৩টি নমুনা পরীক্ষা করে করোনা পজিটিভ ফলাফল এসেছে ২৪ জনের, যা পরীক্ষা করা নমুনার ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, কিছুদিন আগে জেলায় সংগৃহীত নমুনার মধ্যে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশের ওপরে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। তবে কয়েক দিন ধরে শনাক্তের হার কম হচ্ছে। আজ করোনা পরীক্ষার প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশের মতো মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এদিন সুস্থ হয়েছেন ২৪ জন। মৃতও কেউ নেই। এটি একটি ভালো দিক। তবে ফলাফল সন্তোষজনক হলেও জেলায় করোনা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে, তা এখনই বলা যাবে না।

সংক্রমণ রোধ প্রসঙ্গে সিভিল সার্জন বলেন, সংক্রমণ কমিয়ে আনতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। বিনা প্রয়োজনে বাইরে যাওয়া বন্ধ করতে হবে। বাইরে গেলে মাস্ক পরতে হবে। সর্বোপরি স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি নির্দেশ মেনে জীবন যাপন করতে হবে।

আজকের নতুন সংক্রমিত ২৪ জনের মধ্যে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার ৮ জন, টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় ৩ জন, সিরাজদিখান উপজেলায় ২ জন, লৌহজং উপজেলায় ১ জন, শ্রীনগর উপজেলায় ৮ জন ও গজারিয়া উপজেলায় ২ জন রয়েছেন। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আজ ২০৬ জনসহ এ পর্যন্ত জেলার মোট ৯ হাজার ৬ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যে ৮ হাজার ৫১১ জনের নমুনার রিপোর্ট পাওয়া গেছে। এ নিয়ে জেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৮৫৬। ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন আরও ৫০৫ জন।

এ পর্যন্ত সদর উপজেলায় ৭৯৫ জন, টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় ১৬৮ জন, সিরাজদিখান উপজেলায় ২৯১ জন, লৌহজং উপজেলায় ২৫৩ জন, শ্রীনগর উপজেলায় ১৭১ জন ও গজারিয়া উপজেলায় ১৭৮ জন করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে জেলায় করোনায় মৃত মোট ৪৪ জনের মধ্যে সদর উপজেলায় রয়েছেন ২৩ জন, টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় ৮ জন, সিরাজদিখান উপজেলায় ৬ জন, শ্রীনগর উপজেলায় ২ জন ও লৌহজং উপজেলায় ৫ জন।

অন্যদিকে আজ সদর উপজেলায় ১০ জন ও সিরাজদিখান উপজেলায় ১৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ নিয়ে মুন্সিগঞ্জ জেলায় সুস্থ হওয়ার সংখ্যা ৫২২। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৭০ জন, টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় ৩৪ জন, সিরাজদিখান উপজেলায় ১২৯ জন, লৌহজং উপজেলায় ৬২ জন, শ্রীনগর উপজেলায় ৬২ জন ও গজারিয়া উপজেলায় ৬৫ জন সুস্থ হয়েছেন।