মাস্ক না পরা ব্যক্তিদের দুই ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখে পুলিশ। পরে তাঁরা হাত তুলে মাস্ক পরে বের হওয়ার বিষয়ে অঙ্গীকার করেন। গতকাল নাটোর শহরের কেন্দ্রীয় মসজিদ মার্কেটের সামনে
মাস্ক না পরা ব্যক্তিদের দুই ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখে পুলিশ। পরে তাঁরা হাত তুলে মাস্ক পরে বের হওয়ার বিষয়ে অঙ্গীকার করেন। গতকাল নাটোর শহরের কেন্দ্রীয় মসজিদ মার্কেটের সামনেছবি: মুক্তার হোসেন

কারও লাগে গরম, কেউ পরতে ভুলে যান, কেউ-বা সঙ্গে করে আনেননি। মাস্ক না পরার অজুহাতের যেন শেষ নেই। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বারবারই বলছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে মাস্কের কোনো বিকল্প এখন পর্যন্ত নেই। সরকারও ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ জারি করেছে। তবে এখনো মানুষের মধ্যে মাস্ক না পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে ঢিলেঢালা ভাব রয়েছে।

তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানে মাস্ক পরার বিষয়ে কড়াকড়ি রয়েছে। যদিও সেখানে শরীরের তাপমাত্রা মাপা হয় না।

জনসাধারণকে মাস্ক পরতে বাধ্য করতে ঢাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। আর গত ২৫ অক্টোবর মন্ত্রিসভার বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা পেতে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর নিউমার্কেট ঢোকার চারটি গেট। গতকাল বুধবার দুটি গেটে দেখা যায়, জীবাণুনাশক টানেল বসানো হয়েছে। কিন্তু টানেলের মধ্য দিয়ে কেউ প্রবেশ করছেন না। মাস্ক না পরে প্রবেশ করলেও নিরাপত্তারক্ষীরা কাউকে কিছু বলছেন না। মার্কেটের মধ্যে অনেককেই দেখা গেল মাস্ক ছাড়া ঘুরে বেড়াচ্ছেন। মাস্ক বিষয়ে প্রশ্ন করলে অনেকে এড়িয়ে যান। মো. নাইম নামের একজন ক্রেতা বললেন, মাস্ক আনতে ভুলে গেছেন।

দুই শিশু নিয়ে কেনাকাটা করতে আসা এক ক্রেতা এ নিয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হলেন না। ফারহানা মিম নামের আরেক ক্রেতা ব্যাগ থেকে মাস্ক বের করে বললেন, ‘পরতে ভুলে গিয়েছি।’ মার্কেটের বিভিন্ন জায়গায় মাস্ক পরার বিষয়ে ব্যানার ঝোলানো হয়েছে। বিউটি কর্নার একটি দোকানে ঢুকে দেখা গেল বিক্রেতা আবদুল মজিদের মুখেও মাস্ক নেই। তিনি জানালেন, দোকান মালিক সমিতি থেকে মাস্ক পরার জন্য নিয়মিত বলা হচ্ছে।

default-image

নিউমার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি দেওয়ান আমিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘মার্কেটে প্রচুর লোক আসে। সবাইকে বাধ্য করা কঠিন হয়ে যায়। সামনেই মাস্ক ছাড়া মার্কেটে প্রবেশ বন্ধ করা হবে।’

মাস্ক পইরা বেশিক্ষণ থাকন যায় না। গরম লাগে, দম বন্ধ লাগে।
জামাল মিয়া , রিকশাচালক

মাস্ক ছাড়া কাউকে দেখলেই আটকে দিচ্ছেন চাঁদনী চক শপিং কমপ্লেক্সের মূল প্রবেশপথে দায়িত্বরত নিরাপত্তারক্ষী রওশন। তবে নিষেধ উপেক্ষা করে ঢুকে পড়ছেন ক্রেতা ও বিক্রয়কর্মীসহ মার্কেটের লোকজন। রওশন প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রতিদিন এত মানুষ আসে যে সামাল দেওয়া যায় না। একজনরে থামাই তো সাইড দিয়া আরেকজন ঢুইকা পড়ে।’

গাউছিয়া মার্কেটের পাশে পুরাতন এলিফ্যান্ট রোডে মাস্ক বিষয়ে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির উদ্যোগে একটি কর্মসূচি চলছিল। সেখানেও মাস্ক ছাড়া দেখা গেল কয়েকজনকে।

নগরে রিকশাচালকদের বেশির ভাগই মাস্ক পরছেন না। কারও কারও মুখে মাস্ক থাকলেও তা থুতনির নিচে। জামাল মিয়া নামের একজন রিকশাচালক প্রথম আলোকে বলেন, ‘মাস্ক পইরা বেশিক্ষণ থাকন যায় না। গরম লাগে, দম বন্ধ লাগে।’ সরকারের বিধিনিষেধ বিষয়ে এই চালক বললেন, মাস্ক তিনি পকেটে রাখেন। পুলিশ দেখলে পরে নেন। গণপরিবহনেও প্রায় একই অবস্থা। ফার্মগেট বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা গেল, কোনো কোনো বাসে চালক মাস্ক পরা থাকলেও চালকের সহকারীদের সবার মাস্ক থুতনির নিচে।

বিজ্ঞাপন

খাজা বাবা পরিবহনের একটি বাসের সহকারী মো. নুরু বলেন, ‘মাস্ক মুখে দিয়ে যাত্রী ভালোভাবে ডাকা যায় না। ডাকলেও যাত্রী শুনতে পায় না।’ এই পরিবহনের বাসটির যাত্রীদেরও অনেকের মুখে মাস্ক ছিল না। বিকল্প পরিবহনের একটি বাসের চালক জমির সরদার বললেন, ‘যাত্রীদের অনেকেই মাস্ক পরেন না। কেউ না পরলে কী করার আছে।’

জিগাতলা পোস্ট অফিসে, গ্রিন রোডের সোনালী ব্যাংক শাখায় মাস্ক পরেই সবাই ঢুকছেন। কিন্তু প্রবেশমুখে তাপমাত্রা মাপা ও হ্যান্ড স্যানিটাইজ করার কোনো ব্যবস্থা নেই।

মন্তব্য পড়ুন 0