default-image

অন্যান্য দিনের মতো গত ১৩ জুলাইও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় যাত্রী নিয়েছিলেন শেখ মিন্টু (৩৫)। দুই যাত্রীকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকায় পৌঁছে দেবেন বলে ১৭০ টাকা ভাড়া ঠিক হয়। কিন্তু পাথালিয়া ইউনিয়নের মোকামটেক এলাকায় পৌঁছালে মিন্টুকে অন্ধকার গলিপথ দিয়ে অটোরিকশা নিতে বলেন দুই যাত্রী। এতে মিন্টু অস্বীকৃতি জানান। যাত্রীরা ভাড়া দিতেও রাজি না হলে চিৎকার দেন তিনি। তখন ওই দুই যাত্রী তাঁকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান।


ছুরিকাঘাতে আহত মিন্টুর মৃত্যু হয় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে। হত্যার এ ঘটনার তদন্ত করে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বলছে, মিন্টুর অটোরিকশায় ওঠা দুই যাত্রী ছিলেন ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল মিন্টুকে অন্ধকার পথে নিয়ে তাঁর অটোরিকশার ব্যাটারি ছিনিয়ে নেওয়া।
এ হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. আলী হায়দার নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। তাঁর বাড়ি সাভারের উত্তর জামসিং। পিবিআই বলছে, তিনি মাদকাসক্ত, কোনো কাজ করেন না। মাদকের টাকা জোগাড় করতেই সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সঙ্গে জড়িয়েছেন। শুক্রবার পিবিআইয়ের ঢাকা জেলার উত্তরার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানানো হয়।


পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, অটোরিকশাচালক মিন্টুকে সুইচগিয়ার চাকু দিয়ে পেটে ও গলায় আঘাত করেছিলেন গ্রেপ্তার আলী হায়দার। আশপাশ থেকে লোকজন দৌড়ে আসতে থাকায় তাঁরা আর ব্যাটারি ছিনতাই করতে না পেরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালের নিচের ফাঁকা জায়গা দিয়ে ঝাউবনে ঢুকে যান। পালানোর সময় ঘটনাস্থলে নিজের স্যান্ডেল ফেলে যান আলী হায়দার। আর চাকুটি ফেলে দেন পাশের জলাশয়ে। তাঁর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকুটি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে তাঁর পলাতক সহযোগীদের।


মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ পরিদর্শক মো. রাশিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার পরপরই তাঁরা ওই এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেন। সেখানে তাঁরা দেখতে পান, মিন্টু দুজন যাত্রীকে নিয়ে অটোরিকশা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের মুখে মাস্ক থাকায় কারা যাচ্ছেন, সেটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল না। ফুটেজটিও অস্পষ্ট ছিল। পরে প্রযুক্তির সাহায্যে ফুটেজ স্পষ্ট করে সেই যাত্রীদের শনাক্ত করার কাজ শুরু করা হয়। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে একপর্যায়ে আলী হায়দারকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয় পুলিশ।


রাশিদুল ইসলাম বলেন, অটোরিকশায় সাধারণত চারটি ব্যাটারি ব্যবহৃত হয়। নতুন অবস্থায় এগুলোর বাজারমূল্য ৪০ হাজার টাকা। গ্রেপ্তার আলী হায়দাররা সেই ব্যাটারি ছিনতাই করে অর্ধেক টাকায় বিক্রি করে দিতেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0