বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

২০১৮ সালে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় করা নাশকতার এক মামলায় গত বৃহস্পতিবার অধ্যাপক তাজমেরীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তাজমেরী এস এ ইসলামের আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, গত বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে তাঁর জামিন চেয়েছিলাম। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান। আগামীকাল রোববার পুনরায় আদালতে জামিন চেয়ে আবেদন করা হবে।

ভয় ধরানোর জন্য তাজমেরী এস এ ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মন্তব্য করে শওকত মাহমুদ বলেন বলেন, ‘অধ্যাপক তাজমেরী আপাদমস্তক গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, সভ্যতায় বিশ্বাসী, স্বৈরশাসকবিরোধী একজন ব্যক্তিত্ব। তাঁকে আচমকা গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বর্তমান অবৈধ ফ্যাসিবাদী সরকারের একটি দিনও অতিবাহিত হয়নি, যেদিন কোনো না কোনো পেশাজীবী নেতা বা পেশাজীবী গ্রেপ্তার না হয়েছেন। পেশাজীবী নেতারা আটক হচ্ছেন। তাঁরা মতপ্রকাশ করতে পারছেন না; মানবাধিকার চর্চা করতে পারছেন না।’

অধ্যাপক তাজমেরীকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক আখতার হোসেন খান। তিনি বলেন, ‘তাজমেরী এস এ ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। কেবল তা–ই নয়, তিনি সারা বিশ্বে একজন পরিচিত রসায়নবিদ। তাঁর গ্রেপ্তারের খবর শুনে বাংলাদেশ ও বহির্বিশ্বে তাঁর যত ছাত্র এবং অনুরাগী রয়েছেন, তাঁদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছে। তাঁর গ্রেপ্তারের বিষয়টি কেউ সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি। এ ধরনের অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত যখন নেওয়া হয়, তখন মনে হয় দিন ফুরিয়ে আসছে। যাঁরা এ কাজগুলো করছেন, তাঁরা একটু ভেবে চিন্তা করে করুন। যে জায়গায় হাত দিয়েছেন, সেখানে হাত দিলে হাত পুড়ে যাওয়া ছাড়া অন্য কিছু হবে না।’

জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান বলেন, ‘বাংলাদেশে বর্তমানে যে ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থা কায়েম হয়েছে; সেখানে হত্যা, গুম, গায়েবি মামলা দিয়ে দেশের শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা হয়েছে। এর সর্বশেষ শিকার অধ্যাপক তাজমেরী ইসলাম। তাঁকে গায়েবি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে, ১৭ কোটি মানুষের ওপর জগদ্দল পাথরের মতো যে স্বৈরাচারী সরকার চেপে আছে, এর বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে।’

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত সহকারী আইনজীবী শামসুর রহমান ওরফে শিমুল বিশ্বাস, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের সভাপতি এম আবদুল্লাহ, মহাসচিব নুরুল আমিন, বিএনপির সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ জয়নুল আবেদিন, শিক্ষক নেতা সেলিম ভূঁইয়া প্রমুখ।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন