বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আজ মঙ্গলবার মো. রহমত উল্লাহর পক্ষে এই আইনি নোটিশ পাঠান ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী মো. আমিনুল গনি। নোটিশ পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করতে না পারলে ওই তিনজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে বলা হয়েছে। অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ ছাড়াও নোটিশ পাওয়া অন্য দুই ব্যক্তি হলেন অনলাইন পোর্টাল বিবার্তা২৪.নেটের সম্পাদক বাণী ইয়াসমিন হাসি ও প্রতিবেদক মহিউদ্দিন রাসেল।

১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. রহমত উল্লাহ মুজিবনগর সরকারের সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে খন্দকার মোশতাক আহমদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান বলে অভিযোগ ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) মুহাম্মদ সামাদ সেখানেই তাঁর এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। পরে উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান অধ্যাপক রহমত উল্লাহর বক্তব্যের ওই অংশটি প্রত্যাহার করার কথা জানান।

তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা খন্দকার মোশতাক মুজিবনগর সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কিছু বিপথগামী সেনাসদস্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করার পর নিজেকে দেশের রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন খন্দকার মোশতাক। খন্দকার মোশতাককে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সেই খন্দকার মোশতাককে ‘শ্রদ্ধা জানানোর’ প্রতিবাদে সরব হয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনার ঝড় ওঠে।

এই প্রেক্ষাপটে ১৮ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাব ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে ‘ভুল করে থাকলে ক্ষমা প্রার্থনা’ করেন অধ্যাপক রহমত উল্লাহ। তবে ওই দিনই রহমত উল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা এবং তাঁর বিষয়ে ‘যথোপযুক্ত ব্যবস্থা’ নেওয়ার দাবি জানিয়ে উপাচার্যকে স্মারকলিপি দেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। উপাচার্য ছাত্রলীগের দাবি ও বক্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা জানান।

মো. রহমত উল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। নীল দলের প্যানেল থেকে তিনি শিক্ষক সমিতির সভাপতির পাশাপাশি আইন অনুষদের ডিনও নির্বাচিত হয়েছেন।

এখন মো. রহমত উল্লাহর পাঠানো নোটিশে বলা হয়েছে, আলোচনা সভায় মো. রহমত উল্লাহ মুজিবনগর সরকার গঠনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট হিসেবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ, ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর দেওয়া স্বাধীনতার ঘোষণা, ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র এবং ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণসহ মুক্তিযুদ্ধকালীন সেই সরকারের কর্মপরিচালনা এবং মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী স্বাধীন বাংলাদেশ বিনির্মাণ বিষয়ে আলোচনা করেন।

আলোচনায় মুজিবনগর সরকারে কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হয়েছিলেন, তা উল্লেখ করেন এবং মুজিবনগর সরকারের অন্যতম জাতীয় চার নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ জন্য মোশতাকের নাম উচ্চারণ করেন তিনি।

ওই আলোচনা সভায় অধ্যাপক সামাদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়, তিনি (সামাদ) ওই বক্তব্যের প্রকৃত সত্য জেনেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মো. রহমত উল্লাহর সম্মান কলঙ্কিত করার উদ্দেশ্যে প্রকৃত সত্য গোপন করে মনগড়া বক্তব্য প্রচার করেছেন। মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়ে প্রতিবাদের নামে ঘোলাটে পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন। এর ফলে মো. রহমত উল্লাহর ব্যক্তিগত, পেশাগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক সম্মান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছেন।

১৮ এপ্রিল বিভিন্ন সামাজিক ও ছাত্রসংগঠন মো. রহমত উল্লাহর বিরুদ্ধে হুমকিসহ কুশপুত্তলিকা দাহ করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে উল্লেখ করে আইনি নোটিশে আরও বলা হয়, এসব খবর প্রচারের ফলে মো. রহমত উল্লাহ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ নোটিশ পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে তাঁর সম্পূর্ণ বক্তব্য প্রকাশ ও এর আলোকে নোটিশ গ্রহীতাদের ‘কথিত অভিযোগের’ সত্যতা প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায় মো. রহমত উল্লাহ তাঁদের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হবেন।

এ বিষয়ে অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ আজ সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, আইনি নোটিশের কথা তিনি শুনেছেন। তবে এখনও হাতে পান নি। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটকেও অবহিত করেছেন৷ নোটিশটি ভালোভাবে পড়ে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন