বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
দেয়ালটি যে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল, তা জানত সিটি করপোরেশন ও গণপূর্ত অধিদপ্তর। চলছিল চিঠি-চালাচালিও। কিন্তু কেউ সংস্কারের উদ্যোগ নেয়নি।

সরেজমিন গতকাল দেখা যায়, দেয়ালের বাকি অংশ ভাঙার কাজ চলছে। নতুন দেয়াল নির্মাণের জন্য মাটি খোঁড়া হচ্ছে। শ্রমিকেরা জানান, গতকাল সকালে কাজ শুরু হয়েছে। তবে কারা কাজটি করাচ্ছে, সে বিষয়ে তাঁদের জানা নেই।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আজিমপুর কলোনির ধসে পড়া দেয়ালটি প্রায় ৪০ বছরের পুরোনো। এটিকে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের জন্য গত মে মাসের শুরুতে গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলীকে চিঠি দিয়েছিলেন দক্ষিণ সিটির অঞ্চল-৩-এর নির্বাহী প্রকৌশলী।

দক্ষিণ সিটির স্থানীয় ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, শুধু চিঠি দেওয়া নয়, আজিমপুর গণপূর্ত সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী ইলিয়াস আহম্মেদকে তিনি নিজে দেয়ালটি মেরামতের অনুরোধ করেছিলেন। তাঁরা কোনো উদ্যোগও নেননি। তিনি বলেন, গণপূর্তের অবহেলার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পিলখানা গণপূর্ত উপবিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ কায়সার কবির এবং আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইলিয়াস আহম্মেদকে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান গণপূর্তের ২৫ মে তারিখের একটি চিঠির অনুলিপি দেখান। এই চিঠিতে দেখা যায়, গণপূর্তের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে সিটি করপোরেশনের নালা নির্মাণের কারণেই কলোনির সীমানাদেয়াল ঝুঁকিতে পড়েছে। চিঠিতে সিটি করপোরেশনকে নালা নির্মাণের কাজ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়।

দক্ষিণ সিটির অঞ্চল-৩-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মফিজুর রহমান খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ ধরনের কোনো চিঠি হাতে পাইনি।’

এদিকে আজিমপুর গভর্নমেন্ট কোয়ার্টারস (দক্ষিণাঞ্চল) কল্যাণ সমিতির দুই নেতা সীমানাদেয়ালটি নিয়ে দুই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। সমিতির সভাপতি জামাল উদ্দিন খান প্রথম আলোকে বলেন, দেয়ালটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠার বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। অবশ্য সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ কে এম ফজলুল হক বলেন, দেয়াল সংস্কারের জন্য গণপূর্ত বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের জানানো হয়েছিল।

জিহাদের মা শুধু কাঁদছেন

দেয়ালচাপায় মারা যাওয়া শিশু জিহাদের বাবা নাজির হোসেন পান-সুপারি বিক্রি করেন। মা মণি বেগম গৃহিণী। তবে গয়না তৈরির টুকটাক কাজ করেন। তাঁদের দুই সন্তান। জিহাদের বড় ভাই গুলজার হোসেন দোকানে পণ্য সরবরাহের কাজ করেন। তাঁদের বাস পুরান ঢাকার শহীদনগরের ১ নম্বর গলির মাস্টারবাড়িতে একটি টিনের ছাউনির ঘরে।

ঘটনার দিন সকালে জিহাদকে খাইয়ে স্কুলে পাঠিয়ে দেন তার মা মণি বেগম। কিছুক্ষণ পরই পান দুর্ঘটনার খবর। গতকাল জিহাদদের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, তার মা মণি বেগম শুধুই কাঁদছেন। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ‘স্কুলে যাওনের সময় পরনের ময়লা কাপড় দিয়া বইলা গেছিল, মা এগুলো ধুইয়া দিয়ো। এই জামা এখন কে পরব।’

শিশু জিহাদ পড়ত আজিমপুরের জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের দিবাকালীন শিশুযত্ন কেন্দ্রে। মঙ্গলবার সকালে বাবার হাত ধরে সেখানে যাওয়ার পথে কলোনির দেয়াল ধসে পড়ে তার মৃত্যু হয়। তার বাবা নাজির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’

এর আগে ২০১৪ সালে ঢাকার শাহজাহানপুরে পানির পাম্পের খোলামুখের পাইপের ভেতর পড়ে নিহত হয় জিহাদ নামের চার বছরের আরেক শিশু।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক আদিল মুহাম্মদ খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকারি সংস্থাগুলো জনগণের নিরাপত্তার বিষয়ে উদাসীন। আজিমপুরের ঘটনার সঠিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। তিনি আরও বলেন, কোনো মৃত্যুর ক্ষতি অর্থমূল্যে নির্ধারণ করা যায় না। তারপরও জিহাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন