অহংবোধ থেকে আবরারকে হত্যা করেছে আসামিরা: রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী  

বিজ্ঞাপন
default-image

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ২২ আসামি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। তখন রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান সরকারি কৌঁসুলি মোশাররফ হোসেন কাজল আদালতের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘হুজুর, আমরাও ছাত্র ছিলাম। আমিও ছাত্রলীগ করেছি। ছোট ছোট জিনিস অনেক বড় হয়ে যায়। এখানে জীবন বিপন্ন হয়ে গেছে। আবরার হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা সবাই বুয়েটের ছাত্র।

আসামিদের অহংবোধ, আসামিরা নিজেদের বড় ভাই হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে জোর-জুলুম করেছিল। যা ঠিক নয়। জিজ্ঞাসাবাদের নামে আবরার ফাহাদকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সন্তানহারা পিতা, সন্তান হারা মা, এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার চান।’


বুয়েটের আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানিতে এসব কথা বলেন আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অভিযোগ গঠনের স্বপক্ষে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজলসহ তিনজন আইনজীবী আদালতে বক্তব্য তুলে ধরেন। অন্যদিকে, আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ২২ জন আসামির মধ্যে ১৩ জন বুয়েট ছাত্র মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আদালতের কাছে আবেদন করেন। অব্যাহতির পক্ষে তাঁদের আইনজীবীরা আদালতে বক্তব্য তুলে ধরেন। আসামি পক্ষের একজন আইনজীবী ফারুক আহমেদ বলেন, তার মক্কেলরা হত্যার উদ্দেশে আবরারকে মারধর করেনি। তাই ৩০২ ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হতে পারে না।


আগামী ৯ সেপ্টেম্বর মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ঠিক করেছেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান।
গত বছরের ৬ অক্টোবর দিবাগত রাতে বুয়েটে শেরেবাংলা হল থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ মামলায় গত বছরের ১৩ নভেম্বর বুয়েটের ২৫ ছাত্রের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এ মামলায় বুয়েটের আট ছাত্র হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অহংবোধের ফল জঘন্য হত্যাকাণ্ড:

বুয়েটের আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের বিচারে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে তিনজন আইনজীবীকে স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এই তিনজন আইনজীবী হলেন মোশাররফ হোসেন কাজল, এহসানুল হক সমাজী এবং আবু আবদুল্লাহ ভূঁইয়া। এদের মধ্যে আইনজীবী এহসানুল হক সমাজীকেও বাদীপক্ষে মামলা পরিচালনা করার জন্য নিয়োগ দিয়েছে বুয়েট কর্তৃপক্ষ।


আবরার হত্যা মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আহবান জানিয়ে এহসানুল হক আদালতকে বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডটি একটি নৃশংস জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড। সবাই এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চান।’


পিপি মোশাররফ হোসেন কাজল শুনানির সময় বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত বুয়েটের ছাত্ররা ভুক্তভোগী আবরারকে পানি পর্যন্ত পান করতে দেয়নি। এমন তো হতে পারে না। জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন করে আবরারকে হত্যা করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে অভিযোগ গঠনের স্বপক্ষে আদালতে আমরা বক্তব্য তুলে ধরেছি। সরকার এবং বুয়েট কর্তৃপক্ষ বাদীপক্ষে মামলা পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। নিরাপত্তার জন্য ‘গানম্যান’ চেয়ে আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তিনি আবেদন করেছেন।


আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২৫ আসামির মধ্যে কারাগারে আছেন ২২ জন, পলাতক আছেন তিন আসামি। তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন, আবরার ফাহাদকে ২০০৫ নম্বর কক্ষে নেওয়ার পর ইফতি মোশাররফ অন্যদের বলেন, ‘তোরা এবার আবরারের কাছ থেকে তথ্য বের কর ।

বুয়েটে কে কে শিবির করে।’ তখন মোয়াজ আবু হোরায়রা ও অমর্ত্য ইসলাম আবরারের মুমূর্ষু অবস্থা দেখে মেহেদি হাসান ওরফে রবিনকে জানান, ‘আবরারকে হাসপাতালে নিতে হবে ।’ এই কথা শোনার পর মেহেদি হাসান ওরফে রবিন বলেন, ‘ও নাটক করছে । শিবির চেনস না। শিবির চেনা কষ্ট।’ রাত আড়াইটার সময় ইফতি মোশাররফ, মুজাহিদ, তাবাখখারুল ও তোহা মিলে আবরারকে তোশকে করে হলের দোতলার সিঁড়িতে রাখেন ।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এরপর আসামিরা বুয়েটের চিকিৎসক ও অ্যাম্বুলেন্স ডেকে আনেন। চিকিৎসক আবরারের দেহ পরীক্ষা করে ঘোষণা দেন তিনি মারা গেছেন। আবরারকে হত্যার পর ক্রিকেট স্টাম্প, তোশক, বালিশ, আবরারের ল্যাপটপ, চাপাতি হলের ২০১১ নম্বর কক্ষ থেকে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদের কক্ষে নিয়ে রেখে দেওয়া হয়। বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান ওরফে রাসেল ও সহসভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ ওই হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়ে অপরাধ ঘটাতে সার্বিক সহায়তা করেন। আবরারের মৃতদেহ হলের নিচে নামানোর পর তড়িঘড়ি করে সেখান থেকে সরিয়ে ফেলার জন্য মেহেদী হাসান ওরফে রাসেল বুয়েটের চিকিৎসকের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন।


অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, পরস্পর যোগসাজশে পরস্পরের সহায়তায় শিবির সন্দেহে আবরারের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে নির্মমভাবে পিটিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন