বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বর্তমানে প্রতিটি জেলা পরিষদের ২০ জন সদস্যের মধ্যে পাঁচজন নারী সদস্য (সংরক্ষিত) রয়েছেন। সংশোধিত আইন বাস্তবায়ন হলে কিছু ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ কমে যেতে পারে বলে মনে করেন কর্মশালায় উপস্থাপন করা প্রবন্ধের সহ–লেখক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক প্রণব কুমার পাণ্ডে। তিনি বলেন, ‘মেহেরপুরের মতো ছোট জেলায় নারীর অংশগ্রহণ কমে যাবে। নারীদের অংশগ্রহণ কমে গেলে আমরা আবার পিছিয়ে যাব।’ নারীর অংশগ্রহণের বিষয়টি ভেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম। তিনি বলেন, বর্তমানে জেলা পরিষদে একটি পরোক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা চালু আছে। পরোক্ষ নির্বাচনের পরিবর্তে প্রত্যক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করতে হবে। একই দাবি জানান চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুস সালাম।

তবে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচন করা হবে না বলে জানান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের দাবি প্রত্যাখ্যান করে তাজুল ইসলাম জানান, জেলা পরিষদের সম্পদ ও আয়ে স্বচ্ছতা আনতে বাইরে থেকে লোক এনে অডিট করা হবে। দেশে কোনো রাস্তা আইডিভুক্ত না থাকলে সেটার জন্য কোনো টাকা দেওয়া হবে না।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। জেলা পর্যায়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সমন্বয় করতে হলে একটি সক্ষম ও জনবান্ধব জেলা পরিষদ প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাথালি চুয়ার্ড বলেন, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগকে শক্তিশালী করতে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষামাত্রা বাস্তবায়নে সুইজারল্যান্ড সবসময়ই বাংলাদেশের পাশে থাকবে।

ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জি বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ইউএনডিপি বহু বছর ধরে কাজ করছে। আমরা এসডিজির (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) স্থানীয়করণ এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সরকারকে সহায়তা করে আসছি। নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি কার্যকর জেলা পরিষদ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আমাদের সহায়তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’

মূল প্রবন্ধে আরও বলা হয়, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং পৌরসভার মধ্যে সংযোগস্থল হিসেবে জেলা পরিষদ ভূমিকা রাখতে পারে। বাণিজ্যিক প্রকল্প গ্রহণ করে জেলা পরিষদ আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে। জেলা পরিষদের প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তাদের বিধিবিধান সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকার সিজিটিজেন চার্টার তৈরি করে প্রাঙ্গণে টানিয়ে দিতে পারে। জেলা পরিষদের নাগরিকদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রতিও জোর দেওয়া হয় মূল প্রবন্ধে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন