default-image

সিলেটের সুনামগঞ্জে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলার ঘটনার বিষয়ে আওয়ামী লীগের কোনো নেতার বক্তব্য না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস। তিনি বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকে দেখলাম না এই বিষয়টি (সুনামগঞ্জে সাম্প্রদায়িক হামলা) নিয়ে মুখ খুলতে। আওয়ামী লীগেও কি সাম্প্রদায়িক লোকজন ঢুকে গেছে?’
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত এক সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে সনজিত এসব কথা বলেন। ‘সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত সবার গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে’ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

পুলিশ, জনপ্রতিনিধি ও ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার দিরাই উপজেলা শহরে আয়োজিত সমাবেশে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা জুনাইদ বাবুনগরী ও মাওলানা মামুনুল হক বক্তব্য দেন। মামুনুল হককে নিয়ে নোয়াগাঁও গ্রামের যুবক ঝুমন দাস (২৮) ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দেন অভিযোগে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে গত মঙ্গলবার রাতে নোয়াগাঁও গ্রামের লোকজন তাঁকে পুলিশে ধরিয়ে দেন। পরে গতকাল বুধবার সকালে শাল্লা উপজেলার কাশিপুর, দিরাই উপজেলার নাসনি, সন্তোষপুর ও চন্দ্রপুর গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে নোয়াগাঁও গ্রামে যান। সেখান থেকে শতাধিক লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে নোয়াগাঁও গ্রামে হামলা চালান।

সমাবেশে সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, ‘যে সময়ে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় প্রবেশ করছে, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ পালন করছে, ঠিক সেই সময়ে একটি মিথ্যা ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে গ্রামের পর গ্রামে দুই শতাধিক বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়েছে৷ ধর্মীয় উপাসনালয়েও হামলা করা হয়েছে, দুর্বৃত্তদের ভয়ে মা-বোনেরা ধানখেত ও জঙ্গলে পালিয়ে আছেন। এই কি আমাদের সোনার বাংলাদেশ, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ, এই বাংলাদেশের জন্য ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছিলেন, দুই লাখ মা-বোন তাঁদের সম্ভ্রম হারিয়েছিলেন? সুনামগঞ্জে নিয়োজিত প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের প্রতি আমি ধিক্কার জানাই। দুই দিন আগে পরিকল্পনা করে এই হামলা চালানো হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

সনজিত বলেন, ‘সুনামগঞ্জে বিভিন্ন বাম সংগঠন সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে। কিন্তু আমার কষ্ট লাগল যে সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ কী করল, উপজেলা ছাত্রলীগ কী করল? কেন তারা একটি প্রতিবাদ কর্মসূচি করল না? এই বিষয়গুলো আমাদের ভাবায়। প্রশাসনের নীরবতাও আমাকে বারবার ভাবায়। আমরা কি ধরে নেব যে প্রশাসনে সব সাম্প্রদায়িক লোকজন ঢুকে গেছে, আওয়ামী লীগেও কি সাম্প্রদায়িক লোকজন ঢুকে গেছে? আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকে দেখলাম না এই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে। মামুনুল হকেরা শান্তির ধর্ম ইসলামকে কলুষিত করছে। তাদের এ ব্যবসার শেষ কোথায়? আমরা সর্বধর্মীয় ও সর্বদেশীয় সব ধরনের সাম্প্রদায়িক উসকানি ও হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলো এখন জামায়াত-শিবিরের এজেন্ট ও টাকার গোলাম হয়ে গেছে—এমন অভিযোগ করে সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতার জন্মশতবর্ষে যখন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানেরা আসছেন, তখন বিভিন্ন সংগঠন নানা ধরনের পাঁয়তারা করছে। তারা নাকি কালকে রাজু ভাস্কর্যে সমাবেশ করবে! কালকে দেখা হবে তোদের সঙ্গে। ছাত্রলীগ দেখে নেবে, কীভাবে তোরা এখানে সমাবেশ করিস। সীমা লঙ্ঘন করলে কারোরই পিঠের চামড়া থাকবে না। বাম সংগঠনের একজন নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য তনয়া জননেত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে উল্টা-পাল্টা স্ট্যাটাস দিয়েছেন। ওর কত বড় হিম্মত! ওকে যেখানে পাওয়া যাবে, গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করতে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের প্রতি আমি আহ্বান জানাচ্ছি৷’

default-image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর সাবেক এজিএস সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী দলীয় কোনো উদযাপন নয়, জাতীয় উদযাপন। এই উদযাপনের সময়ে আমরা দেখতে পাচ্ছি, জনগণের কাছ থেকে এবং দেশে-বিদেশে কোনো ধরনের সাড়া না পেয়ে আজকে ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিদেশি অতিথিদের আগমনকে কেন্দ্র করে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর প্রাক্কালে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস ঘটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর উদযাপনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ না করে একটি জনবিচ্ছিন্ন শক্তি আজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ ঢাকা শহরে বিভিন্ন ধরনের তথাকথিত রাজনৈতিক কর্মসূচি দেওয়ার চেষ্টা করছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ সুচারুভাবে উদযাপন করা নাগরিক হিসেবে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এই নৈতিক দায়িত্ব কেউ বাধাগ্রস্ত করতে চাইলে ছাত্রলীগ রাজপথে জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছে৷’

বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর সমালোচনা করে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘যে বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলো মুক্তিযুদ্ধসহ ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল, আজকে সুনামগঞ্জে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটে, তখন তারা হিরণ্ময়ভাবে নীরবতা পালন করে৷ অথচ আরেক দেশের সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের ঘটনা নিয়ে তাদের উচ্চকিত হতে দেখা যায়৷ প্রগতির ভেকধারী কিছু নামসর্বস্ব ছাত্রসংগঠন আজকে সংবাদ সম্মেলনের নামে মধুর ক্যানটিনের সামনে একটি তামাশা মঞ্চস্থ করেছে৷

ভেবেছিলাম, হয়তো তারা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করবে৷ অথচ তারা এমন কর্মসূচির কথা বলেছে, যার সঙ্গে স্বাধীনতার কোনো সম্পর্ক নেই৷ এটি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর উদযাপনে ব্যাঘাত সৃষ্টির অপপ্রয়াস৷’
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি বরিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আল আমিন রহমান, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, মাস্টারদা সূর্য সেন হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাহিদ হাসান, জগন্নাথ হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক উৎপল বিশ্বাস, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সরকার জহির রায়হান, কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সোহান খান, সাইফ বাবু, তিলোত্তমা শিকদার, নজরুল ইসলাম ও আনন্দ সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল সিদ্দিকী বক্তব্য দেন।

বিজ্ঞাপন
রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন