default-image

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের এজলাসকক্ষের রেকর্ডরুমের মামলার নথিপত্র আগুনে পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি হয়েছে।

কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ।

প্রথম আলোকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের নাজির শাহ মোহাম্মদ মামুন।

শাহ মোহাম্মদ মামুন প্রথম আলোকে বলেন, আদালতের এজলাসকক্ষের রেকর্ডরুমে আগুন লাগার ঘটনায় আজ মঙ্গলবার তদন্ত কমিটি করে দিয়েছেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ। চার সদস্যের এই তদন্ত কমিটির প্রধান ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের একজন ম্যাজিস্ট্রেট, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী ও ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা।

বিজ্ঞাপন

গতকাল সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে বিচার চলার সময় হঠাৎ করে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের এজলাসের পেছনের অংশ থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী বের হয়। তখন সবাই এজলাসকক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন।

আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে আসে। তাদের দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় এজলাসকক্ষের আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনে এজলাসকক্ষের রেকর্ডরুমে থাকা বিভিন্ন মামলার নথিপত্র পুড়ে যায়।

আগুনের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের নাজির শাহ মো. মামুন গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, এজলাসকক্ষের ওপরের সিলিংয়ে ২০০৯ সাল থেকে নিষ্পত্তি হওয়া পুরোনো বিবিধ মামলার কাগজপত্র রাখা হয়। সেখানে আগুন লেগে বেশ কিছু নিষ্পত্তি হওয়া নথি পুড়ে গেছে। বাকি নথি সেখান থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি তাপস কুমার পাল গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, আগুনে এজলাসকক্ষের ওপরে রাখা বিবিধ মামলার কিছু কাগজপত্র পুড়ে গেছে। এসব কাগজপত্র মূল মামলার কোনো নথিপত্র নয়। মূলত জামিন আবেদনসহ বিবিধ মামলার নথিপত্র সেখানে রাখা হয়েছিল। তিনি নিজে পুড়ে যাওয়া কাগজপত্র দেখেছেন। বিচারসংক্রান্ত কোনো নথিপত্র সেখানে রাখা হয় না।
আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মইনুল ইসলাম গতকাল জানান, শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত, সে সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত প্রতিবেদন এলেই প্রকৃত ঘটনা জানা সম্ভব হবে।

এজলাসে আগুন লাগার বিষয়ে সদরঘাট ফায়ার স্টেশনের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, কীভাবে এজলাসে আগুন লেগেছিল, সেটি এ মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়। তবে তদন্ত হলে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ সাপেক্ষে আগুন লাগার প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0