ছোট মুদির দোকানি খোরশেদ আলম বলেন, ‘তেলের দাম বেশি। আমাদের মতো মানুষের চলা দায়। রোজার সময় চানাচুর ও পেঁয়াজ-মরিচ ভর্তা করে ইফতারি খেয়েছি। ইফতারের জন্য কোনো কিছু ভাজি করিনি বাড়িতে।’

ঈদের আগে থেকেই বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট দেখা দেয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সয়াবিন তেলের দাম ৩৮ টাকা বাড়িয়ে ১৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন থেকে বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন তেল খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হবে ১৯৮ টাকায়। আর ৫ লিটারের বোতলের দাম হবে ৯৮৫ টাকা। এ ছাড়া খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৮০ টাকা এবং খোলা পাম তেল প্রতি লিটার ১৭২ টাকায় বিক্রি হবে।

কাঁঠালবাগান এলাকার পুরোনো গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালের গলি, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট গলি ও কাঁঠালবাগান বাজারের সাতটি দোকানে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, চারটি দোকানের বিক্রেতারা বলছেন, সয়াবিন তেল নেই। তিনটি দোকানের বিক্রেতারা বলছেন, তেল স্বল্প পরিমাণে রয়েছে। তিনটি দোকানে আগের বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৮০ থেকে ১৯৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

কাঁঠালবাগান বাজারের হাজী সুলতান স্টোরে ১৮০ টাকায় এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছিল। আর খোলা সয়াবিন তেল এক লিটার ১৯৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। অর্থাৎ বোতলজাত তেলের চেয়ে খোলা তেল বেশি দরে বিক্রি হচ্ছিল। এই দোকানের বিক্রেতা জাফর আহমেদ বলেন, ‘এখনো নতুন মাল আসেনি। আমার কাছে অল্প কিছু মাল আছে। আজকে বেচলে মনে হয় না তেল থাকবে।’ তবে কতটুকু তেল তাঁর কাছে আছে, তা তিনি জানাননি।

ফ্রি স্কুল স্ট্রিট গলির নাহিদ স্টোরের পাশের দোকানের কর্ণধার ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘কয়েক মাস হলো আমার কাছে বোতলের তেল নেই। খোলা সয়াবিন তেল আছে। খোলা তেলের দাম ২০০ টাকা লিটার। যখন থেকে বোতলজাত সয়াবিন তেল কম পাওয়া যাচ্ছিল, তখন থেকেই খোলা তেলের দাম বাড়ছিল। শুরুতে খোলা সয়াবিনের দাম ছিল ১৭০ টাকা। এখন সেটা ২০০ টাকা হয়ে গেছে।’

ফ্রি স্কুল স্ট্রিট গলির রহিম জেনারেল স্টোরের বিক্রেতা আবদুর রহিম বলেন, তাঁর কাছে আধা লিটারের তেলের চারটা বোতল এবং এক লিটারের দুটি প্যাকেট আছে। ঈদের দুদিন আগে দোকান বন্ধ করেন তিনি। আজকে খুলেছেন। তিনি বলেন, দোকান বন্ধ থাকায় কিছু তেল রয়ে গেছে।

কাঁঠালবাগানের পুরোনো গ্যাস্ট্রোলিভার গলির সাত্তার মুদি ও ফাস্ট ফুড স্টোরের দোকানি মো. সাত্তার বলেন, ‘১৫ রোজা থেকে আমার দোকানে তেল নেই। লোকই আসে না।’

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন