default-image

মাদকদ্রব্য ও বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনের পৃথক মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত।

আজ রোববার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রবিউল আলম অভিযোগ গঠনের এই আদেশ দেন। প্রথম আলোকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ওই আদালতের সরকারি কৌঁসুলি সালাউদ্দিন হাওলাদার।

সালাউদ্দিন হাওলাদার বলেন, মাদকদ্রব্য ও বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনের দুই মামলায় খালেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই মামলাতেই তাঁর বিচার শুরু হলো। আগামী ১ জুন মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য করেছেন আদালত।

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, অভিযোগ গঠনের সময় খালেদকে আদালতে হাজির করা হয়। তিনি আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

মামলার নথিপত্রের তথ্য বলছে, ২০১৯ সালের অক্টোবরে রাজধানীর গুলশান-২-এর বাসায় র‍্যাব অভিযান চালিয়ে খালেদকে মাদক-অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে গুলশান থানায় মামলা করা হয়। মাদকের মামলা তদন্ত করে একই বছরের নভেম্বরে খালেদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় র‍্যাব। এই মামলার খালেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।

খালেদের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় মাদকের আরেকটি মামলা হয়। এই মামলায় আজ খালেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হলো।

বিজ্ঞাপন

বৈদেশিক মুদ্রা রাখার অভিযোগে খালেদের বিরুদ্ধে সিআইডি বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনে রাজধানীর গুলশান থানায় একটি মামলা করে। মামলার এজাহারে বলা হয়, র‍্যাব খালেদের গুলশানের বাসায় অভিযান চালায়। তাঁর বাসা থেকে ছয়টি দেশের মুদ্রা জব্দ করা হয়। তার মধ্যে সিঙ্গাপুরের ১০ হাজার ৫০ ডলার, থাইল্যান্ডের ১০ হাজার ৪৯০ বাথ, ভারতীয় সাড়ে ৩ হাজার রুপি, সৌদি আরবের ২ হাজার ৩২১ রিয়াল, মালয়েশিয়ার ৬৫৬ রিঙ্গিত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৭৫ দিরহাম রয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, খালেদের পাসপোর্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তাঁর স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ডেবিট কার্ডে মার্কিন ডলার এনডোর্সমেন্ট করা থাকলেও নগদ কোনো বিদেশি মুদ্রার এনডোর্সমেন্ট নেই। বিদেশি মুদ্রা লেনদেন করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে কোনো অনুমতি নেননি বলে তদন্তকালে জানা যায়। সিআইডির পরীক্ষায় দেখা যায়, জব্দ করা মুদ্রাগুলো আসল।

মামলার তথ্যমতে, ১৯৯৬ সালে খালেদ ঢাকা মহানগর যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হন। ২০১২ সালে ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। তখন থেকে খালেদ বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলেন। ঢাকার মতিঝিলের ইয়ংমেন ক্লাব, আরামবাগ ক্লাবসহ ফকিরাপুলের অনেকগুলো ক্লাবে ক্যাসিনোর আসর বসিয়ে রমরমা মাদক ব্যবসাসহ নানা অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে আসছিলেন তিনি। এসব অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে খালেদ কোটি কোটি টাকা আয় করেছেন।

খালেদ খিলগাঁও-শাহজাহানপুরে চলাচলকারী গণপরিবহন থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করতেন। কোরবানি ঈদের সময় শাহজাহানপুর কলোনি মাঠ, মেরাদিয়া, কমলাপুর, সবুজবাগ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেখান থেকে কোটি কোটি টাকা চাঁদা আদায় করতেন। সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে রাজউক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, রেল ভবন, ক্রীড়া পরিষদ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, যুব ভবন, কৃষি ভবন, ফকিরাপুলসহ বেশির ভাগ এলাকার টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করতেন খালেদ। মাদক ব্যবসা, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি করার জন্য গড়ে তোলেন বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী।

অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, দুটি অস্ত্রের লাইসেন্সে ৫০টি করে গুলি কেনার হিসাব থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে খালেদের হেফাজত থেকে শটগানের সাতটি ও পিস্তলের নয়টি অতিরিক্ত গুলি উদ্ধার করা হয়। এগুলো ২০১৭ সালের পর নবায়ন করা হয়নি।

এগুলো অবৈধ অস্ত্র। অবৈধ টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা পরিচালনার জন্য খালেদ এসব অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করতেন।

খালেদের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন