default-image

আরমানিটোলার সেই নবদম্পতির মধ্যে একজন মারা গেছেন। আশিকুজ্জামান খান গতকাল রাত ১১টার দিকে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছেন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক চিকিৎসক সামন্ত লাল সেন। এ নিয়ে আরমানিটোলার আগুনে মৃত মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয়।

সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘আশিকুজ্জামানের স্ত্রীর অবস্থাও খুব আশঙ্কাজনক। দম্পতির জন্য চেষ্টার কোনো কমতি রাখিনি। কিন্তু ছেলেটিকে বাঁচানো গেল না।’

২৩ এপ্রিল ভোররাত সাড়ে তিনটার দিকে আরমানিটোলায় রাসায়নিক গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মারা গিয়েছিলেন চারজন। আর চারজনকে পাঠানো হয় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ)। এর মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন দুজন। আশিকুজ্জামানের আগে ২৫ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাফায়েত (২৮)।

অগ্নিকাণ্ডের সময় ভবনটির একটি তলায় ছিলেন নবদম্পতি মুনা সরকার ও আশিকুজ্জামান খান। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জ্ঞান হারিয়েছিলেন তাঁরা। দুজনের শরীরের ভেতরই ধোঁয়া প্রবেশ করে বলে জানিয়েছিলেন চিকিৎসকেরা। ক্ষতিগ্রস্ত হয় শ্বাসনালি। নবদম্পতিকে পাঠানো হয় আইসিইউতে।

কিন্তু জ্ঞান না ফেরায় ২৪ এপ্রিল তাঁদের পাঠানো হয় লাইফ সাপোর্টে। টানা পাঁচ দিন লাইফ সাপোর্টে থেকে অবশেষে জীবনের কাছে হার মানলেন আশিকুজ্জামান।
চিকিৎসক সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমার জীবনে এত দিন কাজ করি, এমন জিনিস দেখা আমার জন্য খুবই খারাপ। এক মাস হলো মাত্র তাঁরা বিয়ে করেছেন। কিন্তু চেষ্টা করেও কিছু করতে পারলাম না।’
এই চিকিৎসক জানান, আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অপর একজন বৃদ্ধ ব্যক্তির অবস্থা কিছুটা ভালো।

আশিকুজ্জামানের ছোট ভাই সালমান ফারসি সকালে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখন সবাই থানায় গেছে। পোস্টমর্টেম করতে চাচ্ছে পুলিশ। আমরা চাচ্ছি না। দেখা যাক কী হয়।’

বিজ্ঞাপন

মুনা সরকার ও তাঁর স্বামী আশিকুজ্জামান খানের বিয়ে হয় মাত্র দেড় মাস আগে। মুনা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আর আশিকুজ্জামান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র।

আশিকুজ্জামানের বাবা আবুল কাশেম খান জানান, খালার বাসায় থেকে লেখাপড়া করতেন আশিকুজ্জামান। অগ্নিকাণ্ডের দুদিন আগে শ্বশুরের বাসায় এসেছিলেন। তখনই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

আরমানিটোলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মোট ২১ জনকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এদিকে লাইফ সাপোর্টে থাকা মুনা স্বামীকে হারানোর আগে হারিয়েছেন ছোট বোনকে। অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলেই মারা যায় তাঁর বোন সুমাইয়া সরকার।

এ ছাড়া মুনার পুরো পরিবারকেই ভর্তি হতে হয়েছিল হাসপাতালে। বাবা ইব্রাহিম সরকার, মা সুফিয়া সরকার ও ভাই জুনায়েদ সরকারকেও হাসপাতালে যেতে হয়েছিল। তবে তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল না।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন