default-image

রাজধানী ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু হয়েছে । আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু হয়। শুরুতেই রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

রাষ্ট্রপতির পক্ষে মেজর আশিকুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে উপ সামরিক সচিব কর্নেল মো. সাইফুল্লাহ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

বাংলাদেশের উন্নয়নের পালাবদলের অন্যতম পথদ্রষ্টা স্যার ফজলে হাসান আবেদ ৮৩ বছর বয়সে গত শুক্রবার রাত ৮টা ২৮ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। তিনি মস্তিষ্কে টিউমারে আক্রান্ত হয়ে ২৮ নভেম্বর থেকে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

default-image

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, আজ দুপুরে স্যার আবেদকে সমাহিত করা হবে। এর আগে আর্মি স্টেডিয়ামে শুরু হয় শ্রদ্ধা নিবেদন। চলে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। সেখানেই অনুষ্ঠিত হবে জানাজা।

স্যার ফজলে হাসান আবেদকে শ্রদ্ধা জানাতে আর্মি স্টেডিয়ামে ১০টার আগে থেকেই মানুষ আসতে শুরু করেন। স্যার আবেদের মরদেহ আসে সকাল সাড়ে ১০টার একটু আগে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পরই জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী স্যার আবেদকে শ্রদ্ধা জানান। এরপর ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

default-image

এরপর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ সময় তাঁর সঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, বাহাউদ্দিন নাছিমসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন।

শ্রদ্ধা নিবেদনের আগে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, নীরবে নিঃশব্দে স্যার ফজলে হাসান আবেদ তাঁর কাজ করে গেছেন। তিনি চলে গেলেও তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের জীবন পরিবর্তনে কাজ করেছেন।

default-image

স্যার ফজলে হাসান আবেদের স্মরণে বেলা দুইটা থেকে মহাখালীতে ব্র্যাকের প্রধান কার্যালয় ব্র্যাক সেন্টারে শোকবই খোলা হবে। এ ছাড়া আড়ং, ব্র্যাক ব্যাংক, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে কাল সোমবার এবং সারা দেশে ব্র্যাকের আঞ্চলিক অফিসগুলোতে আগামী মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শোকবই খোলা থাকবে। শোকবই থাকবে ৩০ জানুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

default-image

বেলা ১১টার পর স্যার আবেদকে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

স্যার আবেদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নারীদের ক্ষমতায়নে এবং শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনেক। আর্থসামাজিক অবস্থান পরিবর্তনেও তাঁর অবদান আছে। তাঁর মধ্যে সৃজনশীলতার ব্যাপার ছিল। সমাজকে বদলে দেওয়ার যে চেষ্টা তাঁর ছিল, মানুষ তা সারা জীবন মনে রাখবে।

স্যার আবেদকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এক জীবনে এত কাজ কঠিন। কিন্তু উনি করে গেছেন। তাঁর দ্বারা শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা বিশ্বের মানুষ উপকৃত হয়েছে।

বিশিষ্টজনদের শ্রদ্ধা 

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার বলেন, স্যার ফজলে হাসান আবেদ শুধু বাংলাদেশের না সারা বিশ্বের কাছে অনুকরণীয় ব্যক্তি। তিনি যে উন্নয়নের কথা চিন্তা করেছেন তা বাংলাদেশ ছাপিয়ে বিশ্বমানবের উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে। অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার জুলিয়া নেবলেটও স্যার আবেদকে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন।

আর্মি স্টেডিয়ামে স্যার ফজলে হাসান আবেদকে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার,বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী, ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, বেঙ্গল গ্রুপ লিমিটেডের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারা যাকের ও জিয়াউদ্দিন তারিক আলী, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক শিপা হাফিজাসহ দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংগঠন ও সর্বস্তরের মানুষ স্যার আবেদকে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0