default-image

রাজধানীর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনার মামলায় সাফায়েত জামিল নামের এক শিক্ষার্থী আদালতে আত্মসমর্পণ করে লিখিতভাবে মামলার আসামি হতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি বলেছেন, তিনি মামলার আসামি হতে ইচ্ছুক। মামলায় আসামি হিসেবে যেন তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত তাঁর আবেদন মঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

সাফায়াত জামিলের আইনজীবী এম এ বি এম খায়রুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, গত ২৯ জানুয়ারি রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা হয়। সেই মামলায় চারজন আসামির নাম উল্লেখ করা হয়। ৫ নম্বর আসামির তালিকায় একজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। এই মামলায় দুজন আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। একজন আসামি মারা গেছেন। আরেকজন পলাতক। আর ৫ নম্বর আসামি হলেন তাঁর মক্কেল। তিনি ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবে জড়িত নন। অথচ পুলিশ তাঁর বাসায় গিয়ে একাধিকবার গ্রেপ্তারের অভিযান চালিয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে হলফনামা জমা দিয়েছেন এবং ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি মামলার আসামি হতে চান। আদালত আসামির আবেদন মঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

মামলায় ওই শিক্ষার্থীর বাবার অভিযোগ, গত ২৮ জানুয়ারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী (বাদীর মেয়ে) মিরপুর থেকে লালমাটিয়ায় তাঁর বন্ধু আরাফাতের কাছে আসেন। এরপর আসামি মর্তুজা রায়হান চৌধুরী ও আরাফাত ওই শিক্ষার্থীকে নিয়ে উত্তরায় বাম্বুশ্যুট নামের একটি রেস্টুরেন্টে যান। আগে থেকে ওই রেস্টুরেন্টে অবস্থান করা আসামি নেহা ও অজ্ঞাত একজন ব্যক্তিসহ অন্য আসামিরা ওই শিক্ষার্থীকে অধিক মাত্রায় মদ পান করান। তখন ওই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে সেখান থেকে মোহাম্মদপুরে নুহাত আলম তাফসীরের বাসায় আসে। সেখানে আসামি মর্তুজা রায়হান চৌধুরী ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করেন। পরে আরও অসুস্থ হয়ে পড়লে ওই শিক্ষার্থীকে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রোববার তাঁর মৃত্যু হয়।

মামলার নথিপত্র বলছে, ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার মর্তুজা রায়হান চৌধুরী ও নুহাত আলম তাফসীরকে পাঁচ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন আদালত। এই দুই আসামি এখন পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল লতিফ প্রথম আলোকে বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মামলার অপর আসামি আরাফাত মারা গেছেন। বিষয়টি আদালতকে জানানো হয়েছে। আরেক আসামি নেহা পলাতক। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন