প্রত্যক্ষদর্শী ইডেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের একাধিক নেত্রী প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল কমিটি ঘোষণার পর সন্ধ্যায় তামান্না জেসমিন ও রাজিয়া সুলতানাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান কলেজ কমিটি ও কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাওয়া অন্য নেত্রীরা। এরপর রাত নয়টার দিকে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হওয়া ইফরাত জাহান, তাজুন্নাহার সোমা ও সাবিকুন্নাহার তামান্না এবং কলেজ কমিটির সহসভাপতির পদ পাওয়া সোনালী আক্তার ও সুস্মিতা বাড়ৈয়ের অনুসারীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন৷

ইডেন কলেজের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নিচে ও হলের বারান্দায় অবস্থান নিয়ে ছাত্রলীগের ওই নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ করতে থাকেন। এর একপর্যায়ে তামান্না জেসমিন ও রাজিয়া সুলতানার কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন তাঁরা। এ সময় হলের কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুরও চালানো হয়। বিক্ষোভকারী ছাত্রীরা ‘রিভা-রাজিয়া, ছাত্রলীগের লজ্জা’, ‘সভাপতি-সেক্রেটারি, বাতিল চাই বাতিল চাই’, ‘নিশির রাজত্ব, মানি না মানব না’ প্রভৃতি বলে স্লোগান দেন।

বিক্ষোভকারী একাধিক ছাত্রলীগ নেত্রী অভিযোগ করে বলেন, ইডেন কলেজে আরও অনেক যোগ্য প্রার্থী থাকলেও একজন অছাত্রকে সভাপতি করে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন বিবাহিত, অছাত্র ও বিতর্কিত প্রার্থীরা। ইডেন কলেজের কমিটি গঠনে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেনজীর হোসেন ওরফে নিশি অবৈধ হস্তক্ষেপ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নেতা-কর্মীদের উপেক্ষা করে নতুন কমিটি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের মুঠোফোনে একাধিক কল করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। ইডেন মহিলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তামান্না জেসমিন ও সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানার মুঠোফোনে কল করেও সাড়া মেলেনি।

ইডেন কলেজ রাজধানীর লালবাগ থানার অধীন। গতকাল রাতের বিক্ষোভের বিষয়ে এই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এম মুর্শেদ আজ শনিবার সকালে প্রথম আলোকে বলেন, পছন্দের লোক ইডেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক না হওয়ায় ৩০ থেকে ৪০ জন ছাত্রী বিক্ষোভ করেছেন। সেখানে উত্তেজনা তৈরি হলেও হাতাহাতি বা মারামারি হয়নি। গতকাল রাত পৌনে দুইটার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে। আজও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন