বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তানিয়া জানান, তিনি ডান চোখে দেখেন না। ১০ ও ১৪ মাস বয়সে তাঁর চোখে দুটি অস্ত্রোপচার হয়। অস্ত্রোপচারে চোখ অবিকৃত থাকলেও দৃষ্টি হারান। তিনি ইতিবাচক ভাবনা নিয়ে বড় হয়েছেন। তবে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অসংবেদনশীল আচরণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। তানিয়া বলেন, অন্তত চারজন কর্মকর্তা-কর্মচারী তাঁকে নানান প্রশ্ন করেন। এসব প্রশ্নের মধ্যে ছিল—‘আপনি অন্ধ, তার সার্টিফিকেট কই? আপনি যে দেখেন না, তো চোখ এমন স্বাভাবিক কেন? অন্ধ চোখ নরমাল দেখায় কেন? আপনি অন্ধ, তার প্রমাণ কী? আপনার এটা কি নকল চোখ? আপনি অন্ধ, তার ডিক্লারেশন ও সার্টিফিকেট আনবেন, তারপর কাগজ সাবমিট হবে। আপনি চোখে কাজল দিয়ে এসেছেন বলেই স্ক্যান করা যাচ্ছে না।’

গত বুধবার সাক্ষ্য দেওয়ার কথা জানিয়ে তানিয়া প্রথম আলোকে বলেন, তিনি প্রতিবাদ করেছেন যাতে অন্য কেউ হেনস্তার শিকার না হয়। তাঁর ঘটনার মধ্য দিয়ে হলেও পাসপোর্ট ফরমে যেন পরিবর্তন আসে। ফরমে প্রতিবন্ধিতার বিষয়গুলো আগে থেকে যেন উল্লেখ থাকে। এতে করে প্রতিবন্ধিতা আছে এমন ব্যক্তিদের মানসিক প্রস্ততি থাকবে। তাঁরা লোকজনের সামনে অসংবেদনশীল আচরণের শিকার হয়ে মনঃকষ্টে ভুগবেন না। তিনি বলেন, ‘আমি পরিবর্তন চাইছি। আমার অসম্মানের বিনিময়ে হলেও এ ধরনের মানসিকতার যেন পরিবর্তন আসে। অধিদপ্তর আমাকে জানিয়েছে, ফরমে পরিবর্তন আনার বিষয়ে তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানাবে। অধিদপ্তরের যে কর্মীরা অসংবেদনশীল আচরণ করেছিলেন, তাঁদের তিনজনের বক্তব্যও নিতে দেখেছি।’ তাঁরা কি বলেছেন জানতে চাইলে বলেন, তাঁরা দাবি করেছেন, কক্ষে অনেক লোক ছিল। কিছু মন্তব্য বাইরের লোকও করেছে।

কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আজিজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, কমিটিকে প্রথমে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। তিনি আরও পাঁচ কার্যদিবস সময় বাড়িয়ে নিয়েছেন। গত বুধবার তানিয়া নূরের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তরের তিনজনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তদন্তে কি পেয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মন্তব্য করতে চাই না।’

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন