পারাবত এক্সপ্রেসের যাত্রী ইয়ারুল ইসলাম যাচ্ছেন সিলেটে। তিনি বলেন, ‘এবারের ঈদযাত্রায় সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জ ছিল টিকিট পাওয়া। ২৩ এপ্রিল টিকিট হাতে পাওয়ার পরই ঘরে ফেরার বাড়তি আনন্দ যোগ হয়। অনেক কষ্টের পরই টিকিট পেয়েছি। আজ বাড়ি যাচ্ছি।’

খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে কমলাপুর ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। সেটি স্টেশন ছেড়ে যায় ৮টা ৪৭ মিনিটে। রংপুরগামী রংপুর এক্সপ্রেসের সকাল ৯টা ১০ মিনিটে স্টেশন ছাড়ার কথা ছিল। তবে তা ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট দেরি করে স্টেশন ছাড়ে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে। ঈদযাত্রার শুরুতেই ট্রেন বিলম্বে ছাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন যাত্রীরা।

রংপুর এক্সপ্রেসের যাত্রী দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার কাছে এক ঘণ্টাও অনেক দামি। কেননা ঈদের পরদিনই আবার আমাকে ঢাকায় ফিরতে হবে। স্টেশনে এসে দেখি ট্রেন ছাড়তে এক ঘণ্টার বেশি দেরি হচ্ছে। যাত্রার শুরুর দিনই দেরি, অন্য দিনগুলোতে তাহলে কী হবে?’

বেলা সোয়া ১১টার জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসে করে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে রওনা হওয়ার কথা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. ফরহাদের। সঙ্গে আছেন স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে। বেলা ১১টার দিকে স্টেশনের দুই নম্বর প্ল্যাটফর্মে পরিবারসহ অপেক্ষা করছিলেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাচ্ছি। প্রতিবারই যাই। বাড়িতে মা আছেন। একসঙ্গে ঈদ করি।’

টিকিট কীভাবে কেটেছেন জানতে চাইলে ফরহাদ বলেন, ‘টিকিট অনলাইনে কেটেছি। চাকরির জন্য ছুটি নিয়ে কাউন্টারে এসে টিকিট কাটা সম্ভব নয়। অনলাইনে টিকিট কাটতে সাড়ে তিন ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে। তবু যে টিকিট পেয়েছি, বাড়ি যেতে পারছি, এটাই শুকরিয়া।’

জিয়াউর রহমান ধূমকেতু এক্সপ্রেসের যাত্রী। সাহ্‌রি খেয়েই রেলস্টেশনে চলে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রতি ঈদেই গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর খড়খড়িতে যাই। এবারও পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে আজ ঢাকা ছাড়ছি। কোনো ধরনের ভোগান্তি এড়াতে এবার অফিসে এক দিন আগেই ছুটি নিয়েছি।’

কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেসের যাত্রী মো. আরিফ। তাঁর ছেলে, ভাতিজাসহ পরিবারের চার সদস্যকে নিয়ে ঈদে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন। ঢাকায় মিরপুরে থাকেন। আরিফ বলেন, ‘প্রায় আধা ঘণ্টার বেশি, ট্রেনে বসে আছি। ট্রেন ছাড়ার কথা ১০টা ৪৫ মিনিটে। আধা ঘণ্টা, এক ঘণ্টা দেরি সহ্য করা যায়। ঈদযাত্রায় এমন টুকিটাকি দেরি মানা যায়। তিন থেকে চার ঘণ্টা দেরি মানা যায় না।’

কমলাপুর রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার বলেন, সকাল থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ১১টি ট্রেন দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে গেছে। এর মধ্যে পশ্চিমাঞ্চলের তিনটি ট্রেন দেরিতে ছেড়েছে। পশ্চিমাঞ্চলে জয়দেবপুর থেকে পাবনার ঈশ্বরদী পর্যন্ত স্টেশনগুলোর একটি থেকে আরেকটির দূরত্ব অনেক বেশি। এ কারণে রেলক্রসিংয়ে একটু সময় বেশি লাগে।

তিনি আরও বলেন, এক স্টেশন থেকে আরেক স্টেশনের দূরত্ব ৩০ কিলোমিটার। একটি ট্রেন গেলে অন্য আরেকটি ট্রেন আসতে বা যেতে পারে না। অপারেটিং সিস্টেমের কারণে ট্রেন কিছুটা বিলম্ব হয়। তবে প্রস্তুতি ও চেষ্টা রয়েছে, যাতে বিলম্ব না হয়।

এবারের ঈদযাত্রায় তেমন কোনো শিডিউল বিপর্যয় হবে না বলে আশা করছেন কমলাপুর রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক। তিনি বলেন, ‘পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনগুলোর কিছুটা বিলম্ব এবং শিডিউল বিপর্যয় হতে পারে, সেটা আমাদের মেনে নিয়েই চলতে হবে।’

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন