রাজধানীর নয়াপল্টনে গতকাল রোববার দুপুরে কথা হয় রিকশাচালক ওহিদুল ইসলামের সঙ্গে। তাঁর গ্রামের বাড়ি রংপুরে। জানালেন, জমিজমা, ঘরবাড়ি না থাকায় ১৮ বছর ধরে ঢাকায় থাকেন। পরিবার নিয়ে তিনি ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানার সামনে একটি বাসায় ছয় হাজার টাকায় ভাড়া থাকেন। স্ত্রী, তিন ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে তাঁর সংসার। বড় ছেলে সোহেলের বয়স ২৫ বছর। তিন বছর ধরে সোহেলের আলাদা সংসার।

ওহিদুল বলেন, ‘বাকি দুই ছেলে কাজ পেলে করে, না পেলে করে না। ছোডো মেয়েটার বয়স ৮ বছর। বড় মেয়ের বয়স ১৭, এখনো বিয়া দিতে পারি নাই।’

গ্রামে বাড়িঘর না থাকায় ঢাকাতেই পরিবার নিয়ে ঈদ করবেন এই রিকশাচালক। তবে তাঁর পরিবারের কারও জন্য এখনো কোনো জামাকাপড় কেনা হয়নি। রোববার বিকেলে ওহিদুলের মুঠোফোনে কল দেওয়া হয়। তিনি জানান, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রিকশা চালিয়ে ৯০০ টাকার মতো উপার্জন করেছেন। সেই টাকা দিয়ে ঈদের দিনের জন্য আধা কেজি করে দুই পদের সেমাই, আধা কেজি চিনি, পাঁচ কেজি চাল, তেল, সাবান ও প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস কেনেন। এতে ৭৫০ টাকা খরচ হয় তাঁর। বাকি ১৫০ টাকা পকেটে আছে।

তাহলে ঈদে ছেলেমেয়েদের জন্য জামাকাপড় কিনবেন না, এমন প্রশ্নে রিকশাচালক ওহিদুল বলেন, ‘টাকা তো নাই। দেহি, আল্লাহ কী করে। আমার তো ভাগ্যই এনকে (এ রকম) বাপ। বছর আইলে আমার এইনকাই হয়।’

ওহিদুলের শরীরটাও বেশি ভালো নয়। গালের এক পাশ ফোলা। ৬১ বছর বয়সী এই রিকশাচালক বলেন, ‘আমার অপারেশন হয়েছে। ডাক্তাররা বলে দিয়েছেন, রিকশা চালানো চলবে না, তা-ও চালাই। ১০ কেজির বোঝা নেওয়া মানা, তা-ও মানি না। পেট বাঁচান লাগব তো বাপ।’

নিজের এই অবস্থা নিয়ে ওহিদুল বলেন, ‘তা-ও আমি খুশি। এই যে গানে বলি না, “হেসেখেলে জীবনটা যদি চলে যায়”, এইভাবেই চলি।’

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন