default-image

রাজধানীর উত্তরায় নির্মাণাধীন একটি ভবন থেকে ৩১টি তাজা ককটেল উদ্ধার হয়েছে। এরপর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল এগুলো নিষ্ক্রিয় করে। আজ শুক্রবার বিকেলে উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের এই ভবনে অভিযান চালানো হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, ঢাকা-১৮ আসনে সংসদ উপনির্বাচনে নাশকতার জন্য এই ককটেলগুলো তৈরি করা হয়েছিল। গ্রেপ্তার হওয়া যুবদলের দুই স্থানীয় নেতার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ওই দুই নেতা হলেন তুরাগ থানা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মামুন পারভেজ এবং ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. সুমন শেখ। তবে যুবদল দাবি করছে, এই দুজনকে গত বুধবার হাইকোর্টের ফটক থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনা পুরোই সাজানো। এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার ও আজ বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করা হয়, সাদাপোশাকধারীরা মামুন পারভেজসহ পাঁচজনকে তুলে নিয়ে গেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. কামরুজ্জামান সরদার প্রথম আলোকে বলেন, ১২ নভেম্বর উপনির্বাচনের দিনে কামারপাড়া স্কুলের পাশে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় সোহেল মিয়া নামের এক ব্যক্তি হাতেনাতে গ্রেপ্তার হন। তাঁর কাছ থেকে তাজা তিনটি ককটেল উদ্ধার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার বদরুজ্জামান জিল্লু জানান, সোহেল জিজ্ঞাসাবাদে মামুন ও সুমনের বিষয়ে তথ্য দেন। সেই তথ্যানুযায়ী আজ সন্ধ্যায় নির্মাণাধীন ওই ভবন থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। সেই ভবন থেকেই তাজা ককটেলগুলো উদ্ধার করা হয়। ককটেলগুলো সেখানেই বানানো হয়েছিল। উপনির্বাচনের দিন এবং পরে উত্তরা এলাকায় সহিংসতার জন্যই এই ককটেলগুলো বানানো হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন জানিয়েছেন। নির্বাচনের দিনও তাঁরা কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন।

সিটিটিসির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের অতিরিক্ত উপকমিশনার রহমত উল্লাহ চৌধুরী জানান, নির্মাণাধীন ভবনে দুটি শপিং ব্যাগে মোট ৩১টি ককটেল রাখা ছিল। সতর্কতার সঙ্গে সেগুলো বের করে পর্যায়ক্রমে নিষ্ক্রিয় করা হয়। বেলার সাড়ে ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলে এ অভিযান। ককটেলগুলো সাধারণ মানের, খুব শক্তিশালী কিছু ছিল না। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এ ধরনের ককটেল ব্যবহার করা হয়।

যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, এই দুজনকে গত বুধবার হাইকোর্টের ফটক থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। দুদিন পর আজ তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে পুরো বিষয়টি সাজানো হয়েছে। ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোর মতো কোনো কাজে তাঁর দলের নেতা-কর্মীরা জড়িত নন।

মন্তব্য পড়ুন 0