বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কলা অনুষদে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক আবদুল বাছির, আইন অনুষদে আইন বিভাগের অধ্যাপক মো. রহমত উল্লাহ, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে অর্গানাইজেশন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপ বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মাদ আবদুল মঈন, বিজ্ঞান অনুষদে ফলিত গণিত বিভাগের অধ্যাপক আবদুস সামাদ, জীববিজ্ঞান অনুষদে প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম মাহবুব হাসান, ফার্মেসি অনুষদে ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক সীতেশ চন্দ্র বাছার, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদে কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক হাফিজ মো. হাসান বাবু, চারুকলা অনুষদে অঙ্কন ও চিত্রায়ণ বিভাগের অধ্যাপক নিসার হোসেন, আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সস অনুষদে ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের অধ্যাপক মো. জিল্লুর রহমান নীল দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে নীল দলের দুজন শিক্ষক মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

সাদা দলের প্রার্থী যাঁরা

কলা অনুষদে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ এস এম আমানউল্লাহ, বিজ্ঞান অনুষদে রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক এমরান কাইয়ুম, জীববিজ্ঞান অনুষদে মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক আখতার হোসেন খান, ফার্মেসি অনুষদে ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক মো. শাহ এমরান, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদে কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. হায়দার আলী এবং চারুকলা অনুষদে গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল রতন সাদা দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে আইন এবং আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদে সাদা দলের কোনো প্রার্থী নেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ১৩টি অনুষদ রয়েছে। অভ্যন্তরীণ ১০টি অনুষদ বাদে অন্য তিনটি অনুষদ পরিচালনা করেন সরকার মনোনীত ডিনরা। ওই তিনটি অনুষদ হলো শিক্ষা অনুষদ, ওষুধ অনুষদ এবং পোস্টগ্র্যাজুয়েট চিকিৎসা বিজ্ঞান ও গবেষণা অনুষদ৷ অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ অনুষদগুলোর ডিনরা ভোটের মাধ্যমে দুই শিক্ষাবর্ষের জন্য নির্বাচিত হন।

২০১৯ সালের ২৯ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বশেষ ডিন নির্বাচন হয়৷ সেখানে ১০টি অনুষদের ৯টিতে জেতে নীল দল৷ ওই ডিনদের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয় গত ৩০ জুন৷

করোনা পরিস্থিতিতে নির্বাচন না হওয়ায় ১ জুলাই থেকে তাঁদের ভারপ্রাপ্ত ডিন হিসেবে নিয়োগ দেন উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান৷ তখন বলা হয়, পরবর্তী নির্বাচিত ডিন দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তাঁরা ভারপ্রাপ্ত ডিনের দায়িত্বে থাকবেন। এর মধ্যে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অবসরে যান, আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্যের দায়িত্ব পান, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রেষণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পান আর ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন প্রেষণে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান হন৷ তাঁদের জায়গায় উপাচার্য অন্য চারজন শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত ডিনের দায়িত্ব দেন৷

দুই অনুষদে সাদা দলের প্রার্থী নেই কেন

১৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ডিন নির্বাচনে আইন এবং আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদে প্রার্থী খুঁজে পায়নি বিএনপিপন্থী সাদা দল। সাদা দলের নেতাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিবেচনায় শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষকদের ওপর রাজনৈতিক চাপ ইত্যাদি কারণে সাদা দল এখন কোণঠাসা। ফলে শিক্ষকেরা সাদা দলের প্রার্থী হতে ভয় পান। তবে এমন অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে আওয়ামীপন্থী নীল দল।
দুই অনুষদে শিক্ষকদের কেউ প্রার্থী হতে রাজি হননি বলে জানালেন সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আইন এবং আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদে আমাদের প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁরা রাজি হননি।’ এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘আমাদের ভোটার কমে গেছে। নতুন ভোটারদের দলীয়ভাবে চাপ দেওয়া হয়। এমন নানা কারণ এর জন্য দায়ী।’

সামাজিক বিজ্ঞানে মুখোমুখি নীল দলের ২ শিক্ষক

গতকাল শনিবার নীল দলের এক সভায় ভোটের মাধ্যমে ডিন নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়। সেখানে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাদেকা হালিম ও অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জিয়াউর রহমান দুজনই ৭২টি করে ভোট পান। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুজনই প্রার্থী হিসেবে ইতিমধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

সাদেকা হালিম ও জিয়াউর রহমান দুজনই নীল দলের প্রভাবশালী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত। শিক্ষক রাজনীতিতে তাঁরা একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। তাঁদের মধ্যে একজনকে ডিন নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করতে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে নীল দলের একটি অভ্যন্তরীণ ভোটের আয়োজন করা হচ্ছে।

নীল দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক আবদুস সামাদ প্রথম আলোকে বলেন, অধ্যাপক সাদেকা হালিম ও অধ্যাপক জিয়াউর রহমান দুজনই আপাতত মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ৪ জানুয়ারি সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে নীল দলের শিক্ষকদের একটি অভ্যন্তরীণ নির্বাচন হবে। সেখানে দুজনের মধ্যে যিনি জিতবেন, তিনিই ওই অনুষদে নীল দলের চূড়ান্ত প্রার্থী হবেন। যিনি হারবেন, তিনি ৫ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন