বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

খসড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মহাপরিকল্পনায় ৩৪ ধরনের কাজের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ ধরনের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২১ সালের মধ্যে। মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন না পাওয়ায় এসব কাজ শুরু করা যায়নি।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে ১২৯টি ওয়ার্ড। এর মধ্যে দক্ষিণ সিটিতে ৭৫টি আর উত্তর সিটিতে ৫৪টি। রাজধানীর বাসাবাড়ি থেকে দুই পদ্ধতিতে বর্জ্য সংগ্রহ করছে ঢাকার দুই সিটি। এর মধ্যে দক্ষিণ সিটি প্রতিটি ওয়ার্ডে বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে বর্জ্য সংগ্রহের কাজটি করছে। আর উত্তর সিটি করপোরেশন একটি ওয়ার্ডে একাধিক প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে কাজটি করাচ্ছে।

আগে বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের কাজটি সকাল থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলত। দিনভর এই কাজ চলমান থাকায় সড়কের যত্রতত্র ময়লা–আবর্জনা পড়ে থাকত। আবার ঠিক সময়ে বর্জ্য সংগ্রহ না করায় নাগরিকদের অনেকেই নালা ও খালে বর্জ্যে ফেলে দিতেন। নির্দেশনা অনুযায়ী দক্ষিণ সিটি এলাকায় সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে বাসাবাড়ির বর্জ্য সংগ্রহের কথা। কিন্তু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের ইচ্ছেমতো সময়ে কাজটি করছে। অন্যদিকে উত্তর সিটি করপোরেশনে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বর্জ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে আগের নিয়মেই। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্জ্য সংগ্রহের কাজে এখনো শৃঙ্খলা ফেরেনি।

প্রতিদিনের বর্জ্য প্রতিদিন নেওয়ার কথা থাকলেও এখনো কিছু এলাকায় এক থেকে দুই দিন পরপর বর্জ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এতে পরিবেশদূষণের পাশাপাশি নাগরিকেরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। আবার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে এই খাতে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ আছে।

এদিকে দুই সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দক্ষিণ সিটির পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংখ্যা ৫ হাজার ১২০। আর উত্তর সিটিতে এই সংখ্যা ৪ হাজার ৬। এর মধ্যে উত্তর সিটিতে ভোররাত ৪টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রাস্তাঘাট পরিষ্কারের কাজ চলে। আর দক্ষিণে এই কাজ হচ্ছে রাত ৯টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত। তবে বাসিন্দারা বলছেন, নগরের অলিগলি পরিষ্কার করা হয় না।

মিরপুর ১১ নম্বরের বাসিন্দা কায়সার এলাহী প্রথম আলোকে বলেন, সকালে অফিসে যাওয়ার পথে রাস্তাঘাট পরিষ্কারের কাজটি শুরু হয়। এতে বিড়ম্বনায় পড়েন তিনি। মাঝে মাঝে দেখা যায়, সড়কে ধুলা জমে আছে, কিন্তু দিনের পর দিন এসব পরিষ্কার করা হচ্ছে না।

উত্তর সিটি সূত্রে জানা যায়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজে সংস্থাটি বছরে ১৭০ থেকে ১৭৫ কোটি টাকা খরচ করছে। অন্যদিকে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে আর্থিক খরচের হিসাব পাওয়া যায়নি।

ঢাকা উত্তর সিটির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডর এম সাইদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের কাজটি সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যে কাজ করছেন।

নাগরিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত স্থপতি ইকবাল হাবিব প্রথম আলোকে বলেন, ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি থাকার কারণে বাসাবাড়ির সব বর্জ্য ঢাকার দুই সিটি সংগ্রহ করতে পারে না। বর্জ্য সংগ্রহের কাজটি শতভাগ সহজ ও আধুনিক করা দরকার। এ জন্য উৎস থেকে বর্জ্য আলাদা করার পর এটি ল্যান্ডফিলে নিতে হবে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন