বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

র‌্যাব বলেছে, তেজগাঁও ও উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মধ্যপ্রাচ্যে মানব পাচার চক্রের অন্যতম হোতা নুর-নবী ভূঁইয়াসহ (৪৪) সাতজনকে। অন্যরা হলেন আবুল বাশার (৫২), আল ইমরান (৪১), মনিরুজ্জামান (৩৫), শহিদ সিকদার (৫৪), প্রমোদ চন্দ্র দাস (৬২) ও টোকন (৪৫)।

এ ছাড়া মোহাম্মদপুর, খিলক্ষেত ও চুয়াডাঙ্গা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ভারতে পাচারকারী চক্রের চার সদস্যকে। তাঁরা হলেন চক্রটির প্রধান কামরুল ইসলাম ওরফে ডিজে কামরুল ওরফে ড্যান্স কামরুল (৩৭), তাঁর সহযোগী রিপন মোল্লা (২২), আসাদুজ্জামান সেলিম (৪০) ও নাইমুর রহমান (২৫)।

এসব অভিযানে ৫৩টি পাসপোর্ট, ২০টি মুঠোফোন, ৮ বোতল বিদেশি মদ, ২৩ ক্যান বিয়ার, দুটি মোটরসাইকেল, একটি ল্যাপটপ ও একটি কম্পিউটার জব্দ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, এই চক্রের ১০ থেকে ১২ জন সদস্য দেশে সক্রিয়। পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে গৃহকর্মী, নার্স, রেস্তোরাঁকর্মীসহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োগ দেওয়ার নাম করে নারীদের পাচার করে আসছে চক্রটি। তারা মূলত ভুক্তভোগী নারীদের মধ্যপ্রাচ্যে পাচারের পর বিক্রি করে দিত। চক্রটি ৩০–৩৫ জন নারীকে বিভিন্ন দেশে পাচার করেছে।

ঢাকায় এই চক্র কয়েকটি ‘সেফ হাউস’ পরিচালনা করছিল বলে জানান র‌্যাব কর্মকর্তা খন্দকার আল মঈন। তিনি বলেন, রাজধানীসহ দেশের কয়েকটি এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন চক্রের সদস্যরা। তাঁরা কয়েক ধাপে বিভিন্ন দেশে নারীদের পাচার করছেন। তাঁদের নিশানায় আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের তরুণী ও মধ্যবয়স্ক নারীরা রয়েছেন। চক্রের সদস্যরা প্রথমে তাঁদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন ও পরে বিদেশে বিভিন্ন লোভনীয় চাকরির প্রলোভন দেখান।

এ চক্রের প্রধান নুর-নবী ভূঁইয়ার বিষয়ে খন্দকার আল মঈন বলেন, নূর–নবী লক্ষ্মীপুরের স্থানীয় একটি কলেজ থেকে ১৯৯৬ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। ১৯৯৬ সালে ঢাকায় এসে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন। ১৯৯৮ সাল থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে প্রবাসী কর্মী হিসেবে কাজ করেন। ওমানে থাকা অবস্থায় পাচারকারী একটি চক্রের সঙ্গে তাঁর সখ্য গড়ে ওঠে। ২০২০ সালে ওমান থেকে দেশে ফিরে মানব পাচারের সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে পড়েন তিনি।

ভারতে নারী পাচারকারী চক্রের সদস্যদের বিষয়ে এই র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, এ চক্রের অন্যতম হোতা কামরুল ইসলাম। চক্রের সদস্য ১৫ থেকে ২০ জন। ২০১৯ সাল থেকে চক্রটি অল্পবয়সী নারীদের ভারতে পাচার করে আসছে। চক্রটি নাচ শেখানোর নামে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নারীদের ঢাকায় নিয়ে আসত। পরে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করত। এভাবে ভারতে শতাধিক নারীকে পাচার করেছে চক্রটি।

কামরুল ইসলাম সম্পর্কে খন্দকার আল মঈন বলেন, কামরুল ইসলাম ২০০১ সালে কুমিল্লা থেকে এসে ঢাকার বাড্ডা এলাকায় রিকশা চালাতেন। পরে তিনি একটি পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ভ্যানচালক হিসেবে কাজ করেন। ২০১৬ সালে চলচ্চিত্র অঙ্গনের ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ২০১৯ সালে হাতিরঝিল এলাকায় ‘ডিজে কামরুল ড্যান্স কিংডম’ নামে ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেন। এই ক্লাবে নাচ শেখানো ও পরে ভারতে ভালো বেতনে চাকরির লোভ দেখিয়ে নারীদের পাচার করা হতো।
৮ রুটে ভারতে মানব পাচার

র‌্যাব জানিয়েছে, দেশের আট জেলার সীমান্ত দিয়ে মানব পাচার করা হচ্ছে। এগুলো হলো চুয়াডাঙ্গার নেপা, সাতক্ষীরার দেবহাটা, যশোরের বেনাপোল, লালমনিরহাটের দহগ্রাম, জয়পুরহাটের বস্তাবর, মৌলভীবাজারের পশ্চিম শিলুয়া, টেকনাফের জালিয়াপাড়া এবং কুমিল্লার গৌরাবাড়ী।

এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সাতটি রুটে মানব পাচার করা হচ্ছে। এগুলো হলো ওমান, দুবাই, কাতার, সৌদি আরব, কুয়েত, মিসর ও জর্ডান।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন