বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মিজানুর জানান, তাঁর বয়স ২১ বছর। গ্রামের বাড়ি বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের নয়নপুরে। তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। মাদ্রাসার হিফজ বিভাগে কিছুটা পড়ালেখা করেছেন তিনি। তবে অর্থের অভাবে পড়ালেখাটা আর এগোয়নি তাঁর।

মিজানুর জানান, তিনি গ্রামের বাড়িতে মা–বাবার সঙ্গে থাকেন। মা–বাবার বয়স হয়ে গেছে। তাঁরা এখন আর পরিবারকে আর্থিকভাবে সহায়তা করতে পারেন না। বড় ভাইয়েরা বিয়ে করে নিজেদের মতো ঘর–সংসার করছেন। এ অবস্থায় তিনি বিপদে পড়ে গেছেন। তিনি নিজের পায়ে দাঁড়াতে চান। কিন্তু কোনো উপায়ান্ত পাচ্ছেন না।

মিজানুর বলেন, ‘আমি জন্মগতভাবেই দুই চোখে দেখতে পাই না। আমার ভাইবোনদের কারও এই সমস্যা নেই। তারা তাদের মতো করে নিজেদের সংসার নিয়ে ব্যস্ত। এদিকে আমি চলতে-ফিরতে পারি না। আমি মানুষের কাছে হাত পাততে চাই না, কাজ করে খেতে চাই। আমি যে ধরনের কাজ পারি, তা আমাকে দিলে ভালোভাবেই করতে পারব।’

মিজানুর জানান, তিনি ঢাকার শনির আখড়ায় এক বোনের বাসায় এসে উঠেছেন। সেখানে বেকার বসে থাকতে তাঁর ভালো লাগছে না। তাঁর মনে হচ্ছে, তিনি সবার বোঝা।

মিজানুর আরও জানান, তাঁর এক বড় ভাই তাঁকে পরামর্শ দিয়েছেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এসে দাঁড়িয়ে কোনো দাবি জানালে তা কর্তৃপক্ষের নজরে আসবে। এতে তাঁর একটা চাকরির ব্যবস্থা হয়ে যেতে পারে।

বড় ভাইয়ের পরামর্শে মিজানুর পল্টন এলাকায় এসে ১০০ টাকা খরচ করে একটি ব্যানার বানিয়েছেন। সেই ব্যানার নিয়েই তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দাঁড়িয়েছেন। তিনি জানান, জীবনে এই প্রথম কোনো দাবি নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দাঁড়িয়েছেন। কারণ, তাঁর সামনে আর কোনো উপায় খোলা নেই।

চাকরির আশায় মিজানুরকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তিনি জানেন না যে প্রেসক্লাবের সামনে কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে তাঁর একটা চাকরি মিলবে।

একপর্যায়ে মিজানুর এই প্রতিবেদকের কাছে জিজ্ঞাসা করেন, ‘কতক্ষণ দাঁড়ালে একটা কাজ পাব?’

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন