বিজ্ঞাপন

রায়েরবাজার কবরস্থানে গত বুধবার আলমগীরের সঙ্গে কথা হয়। ২০১৬ সালের ২৫ মার্চ রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের পেছনে দেশের সবচেয়ে বড় কবরস্থানটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্মিত এই কবরস্থানে প্রায় এক লাখ কবরের জায়গা আছে। রায়েরবাজার কবরস্থানে মোট জমির পরিমাণ ৯৬ দশমিক ২৩ একর। আলমগীর এ কবরস্থানের উদ্বোধনের সময় থেকেই কাজ করছেন।

আলমগীর জানান, তাঁর বাবার বাড়ি শরীয়তপুর। তাঁর জন্ম জুরাইনে। প্রথম কাজ শুরু জুরাইন কবরস্থানে। এরপর আজিমপুর কবরস্থানে কাজ করেছেন পাঁচ বছর। কিছুদিন সিটি করপোরেশনের কারওয়ান বাজার অফিসে কাজ করেছেন। তারপর আবার রায়েরবাজার কবরস্থানে কাজ করছেন। বয়স হয়েছে, তাই এখন আর কবর খুঁড়তে পারেন না। ছেলের কাজে সাহায্য করেন।
মোহাম্মদ আলমগীরের পাঁচ মেয়ে ও তিন ছেলে বেঁচে আছেন। তিন ছেলে মারা গেছেন আগেই। পাঁচ মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। দুই ছেলে বিয়ে করেছেন। ছোট ছেলে মাদ্রাসায় পড়ছে। আলমগীরের মতে, কবরস্থানে কাজ করেন বলে সবাই তাঁকে সম্মান দেয়।

default-image

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আলমগীরসহ কবরস্থানের অন্যদের কাজ কিছুটা বেড়েছে। আলমগীর জানালেন, গত বছর করোনায় মারা যাওয়া ১৫ থেকে ১৬টি লাশও এক দিনে কবর দিয়েছেন। এ বছর সেই তুলনায় কম লাশ আসছে। বললেন, ‘আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, করোনা মহামারি তুলে নাও।’

এ পর্যন্ত কত কবর দিয়েছেন বা কবর দেওয়ার কাজে সহায়তা করেছেন আলমগীর, তার হিসাব রাখেননি। বলেন, ‘বহুত কবর দিছি, হিসাবকিতাব নাই। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার ৩০১টি লাশ, তাজরীন গার্মেন্টস দুর্ঘটনাসহ লাশের তো আর অন্ত নাই।’ আলমগীর তিন ছেলে, বোন, বাবার লাশও নিজ হাতে কবর দিয়েছেন। বলেন, নিজের স্বজন মারা গেলে যেমন দরদ দিয়ে কবর দেন, একইভাবে অচেনা লাশও কবর দেন। তাঁর ভাষ্য, ‘এই মানুষগুলোকে তো সেবা করার আর সুযোগ মিলবে না।’

কবরস্থানে গোরখোদক হিসেবে যখন কাজ করতেন, তখন কোনো বেতন ছিল না। পরে সিটি করপোরেশনের কর্মী হিসেবে ৯৮৫ টাকা দিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন। এখন বেতন হয়েছে ২৮ হাজার টাকা। সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কাজ করেন। ঈদে কোনো ছুটি পান না। বললেন, ঈদের দিনও তো কবরস্থানে লাশ আসা বন্ধ থাকে না।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন