বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক আইজিপি বেনজীর আহমেদ। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত আইজিপি এস এম রুহুল আমিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত আইজিপি মো. মইনুর রহমান চৌধুরী, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম, র‍্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রধান, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। করোনা ইনসিগনিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচনের পর আইজিপি বেনজীর আহমেদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ইনসিগনিয়া পরিয়ে দেন। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একে একে আইজিপি, অতিরিক্ত আইজিপি ও পুলিশ সদস্যদের করোনা ইনসিগনিয়া পরিয়ে দেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে করোনায় মারা যাওয়া পুলিশ সদস্যদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে করোনাকালে পুলিশের অনন্যসাধারণ অবদানের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়।

আসাদুজ্জামান খান বলেন, করোনা মোকাবিলায় কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে দেশ ও জনগণের কল্যাণে যা যা করা প্রয়োজন, সব করেছে পুলিশ। পুলিশ দায়িত্ব পালনে কোনো সময় অবহেলা করেনি। প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশে করোনা মোকাবিলায় করোনার বিধিনিষেধ, কোয়ারেন্টিন বাস্তবায়ন, অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছানো, তাঁদের বাড়িতে খাবার পৌঁছে দেওয়া, করোনায় কেউ মারা গেলে যখন আত্মীয়স্বজন লাশ ফেলে চলে গেছেন, তখন লাশের দাফন ও সৎকার করা, এমনকি কৃষকের ধান কাটার ব্যবস্থাও করেছে পুলিশ। করোনার চিকিৎসায় যখন দেশের অনেক বড় বড় হাসপাতাল কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছে, সেখানে পুলিশ হাসপাতাল করোনা চিকিৎসায় অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। তারা শুধু পুলিশ সদস্যদের নয়, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষকেও চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা আবারও প্রমাণ করলেন, পুলিশ জনগণের পাশে থাকে, ভবিষ্যতেও পাশে থাকবে।’

আইজিপি বেনজীর আহমেদ বলেন, করোনাকালে দেশ ও জনগণের কল্যাণে বাংলাদেশ পুলিশের ১০৭ জন গর্বিত সদস্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ২৬ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য। আক্রান্ত পুলিশ সদস্যরা সুস্থ হয়েই দেশ ও জনগণের কল্যাণে আবার নিজেদের নিয়োজিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘করোনা সংক্রমণের প্রথম দিকে প্রতিদিন ৭০০–৮০০ পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হন। আমাদের পিপিপি নেই, হ্যান্ড গ্লাভস নেই, মাস্ক নেই। তবু আমরা জনগণের পাশে ছিলাম। এ জন্য আমাদের সদস্যদের সংক্রমণের হার বেড়ে গিয়েছিল। আমরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জনগণকে সেবা দিয়েছি এবং পরে নিজেদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছি। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা পেয়েছি। বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের প্রথম দিন থেকেই বাংলাদেশ পুলিশ সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে কাজ করেছে।’

পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘প্রথম পুলিশ হাসপাতালে আইভারমেট্রিন ব্যবহার করেছি। বিদেশি হাসপাতালের সঙ্গে পুলিশ হাসপাতাল করোনা চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা করেছে। আমরা প্রথম প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগ করেছি। করোনা চিকিৎসায় পুলিশ হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী সবাই অতিমানবীয় কাজ করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘যত সহজে এ কথাগুলো বলেছি, তা করা খুব সহজ ছিল না।’

default-image

করোনা ইনসিগনিয়া দেওয়া প্রসঙ্গ উল্লেখ করতে গিয়ে আইজিপি বলেন, ‘র‍্যাব যখন সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করেছে, তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তখনকার র‍্যাব প্রধান হিসেবে আমাকে বলেছেন, আপনারা এত বড় একটা কাজ করলেন, আমি আপনাদের জন্য কিছু করতে চাই।

তিনি আমাদের আর্থিক অনুদান দিতে চেয়েছেন, সনদ দিতে চেয়েছেন। তখন আমরা মাননীয় মন্ত্রীকে প্রস্তাব দিলাম যে আমাদের একটি ইনসিগনিয়া প্রদান করেন, যাতে আমরা মর্যাদার সঙ্গে এটা পরতে পারি। পরে তিনি আমাদের ইনসিগনিয়া দেন, এবারও করোনা মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের অনন্যসাধারণ অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আমাদের করোনা ইনসিগনিয়া প্রদান করে।’

বৃত্তাকার দেড় ইঞ্চি থেকে পৌনে দুই ইঞ্চি ব্যাসের কোভিড-১৯ ইনসিগনিয়ায় ব্যবহৃত বাঁটসহ ছুরি দ্বারা করোনাভাইরাসকে বিদ্ধ করা হয়েছে, যা ‘অদম্য ও কার্যকর মোকাবিলার’ প্রতীকী অর্থে ব্যবহৃত হয়। ইনসিগনিয়ায় ব্যবহৃত মুষ্টিবদ্ধ হাত করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সম্মুখযোদ্ধাদের দৃঢ় প্রত্যয়ের প্রতীক।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন