default-image

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, করোনায় সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বাড়লেও সরকার এ নিয়ে একেবারেই উদাসীন। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সরকার অবহেলা করছে। এভাবে চললে জনগণ গভীর সংকটে পড়বে। রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আজ মঙ্গলবার জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, করোনার সংক্রমণ রোধে সরকার কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। গত বছরের মার্চ মাসেও সরকার করোনা পরিস্থিতিকে এড়িয়ে গিয়েছিল। এবারও সরকার তা–ই করছে।

বিজ্ঞাপন

বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বিএনপির নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আজ সারা দুনিয়ায় করোনার সংক্রমণ বেড়ে গেছে। করোনাভাইরাস তার ধরন পরিবর্তন করে শক্তিশালী রূপ নিয়েছে। সারা পৃথিবী যেখানে দীর্ঘশ্বাস নিচ্ছে, সেখানে সরকার কোনো সাবধানতা অবলম্বন করেনি, কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। কারণ, তাদের সামনে কিছু অনুষ্ঠান। আমরা দেখতে পেলাম, গতকাল ২৬ জন করোনায় মারা গেলেন। সংক্রমণের হার যেখানে ৩ শতাংশের নিচে নেমে গিয়েছিল, সেখানে সংক্রমণের হার ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।’

বিদেশি অতিথি আসা উপলক্ষে ১০ দিনের জন্য সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘বিদেশি অতিথি আসা উপলক্ষে সব রাজনৈতিক, সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ১০ দিনের জন্য। সার্ক সম্মেলন হলে ছয়–সাতটি দেশের সরকার প্রধান দেশে এসে থাকেন। তখনো কিন্তু এভাবে সব প্রোগ্রাম বন্ধ করে দেওয়া হয়নি। ১০ দিনের জন্য রাজনৈতিক, সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত, সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করুন।’

আলোচনা সভায় তিস্তা চুক্তি নিয়ে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘তিস্তা নিয়ে ভারতের সঙ্গে আমাদের বহুদিন ধরে সমস্যা আছে। আলাপ-আলোচনা চলছে। গতবার যখন দুই প্রধানমন্ত্রীর দেখা-সাক্ষাৎ হলো, তখন তিস্তা চুক্তির বিষয়ে কোনো অ্যাজেন্ডাও ছিল না। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বলল, “তিস্তা চুক্তিতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু রাজ্য সরকার রাজি হচ্ছে না।” এখন আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, ১০ বছর আগে নাকি এই তিস্তা চুক্তির পাতায় পাতায় সই হয়েছে। তাহলে জনগণের পক্ষ থেকে আমাদের জিজ্ঞাসা, ১০ বছর আপনারা ক্ষমতায়। আপনারাই বলছেন ১০ বছর ধরে তিস্তা চুক্তির কোনো অগ্রসর হয়নি। তাহলে আজকে বলছেন ১০ বছর আগে পাতায় পাতায় চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। কী রহস্য রয়েছে, কেন আপনারা চুক্তির তথ্য জনগণের সামনে উপস্থাপন করলেন না? আমরা দাবি করব, এই সময়ে তিস্তা চুক্তির তথ্য জনগণের সামনে প্রকাশ করুন।’

সভায় মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন খন্দকার মোশাররফ। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃত করা হচ্ছে। একটি দল গায়ের জোরে সরকারে টিকে থাকার জন্য মিথ্যাচার করছে। স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের দল মুক্তিযোদ্ধাদের দল। আমরা স্বাধীন হয়েছি মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। স্বাধীনতাকে বুঝতে হলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বুঝতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

জিয়াউর রহমানের খেতাব কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে মন্তব্য করে বিএনপির নেতা মোশাররফ বলেন, ‘যদি জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিল হয়ও, তাতে জিয়াউর রহমানের কিছু যায়–আসে না। জিয়াউর রহমান খেতাবের অনেক ঊর্ধ্বে। আজকের প্রধানমন্ত্রী বলছেন, জিয়াউর রহমান ২৫, ২৬ ও ২৭ মার্চ বাঙালি হত্যা করেছিলেন। কিন্তু জিয়াউর রহমান তাঁর অধিনায়কসহ পাকিস্তানি সৈন্যদের গ্রেপ্তার করেছেন। তাঁর সামনে তো পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ছাড়া অন্য কোনো বাঙালি ছিলেন না। তাহলে জিয়াউর রহমান কীভাবে বাঙালি হত্যা করেছিলেন? এভাবে যদি ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়, তাহলে জাতি কোথায় যাবে।’

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহসভাপতি নবী উল্লাহ নবী, যুক্তরাজ্য আইনজীবী ফোরামের সভাপতি জিয়াউর রহমান, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মো. রহমত উল্লাহ, বিএনপির সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি হুমায়ুন কবির ব্যাপারী প্রমুখ।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন