বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলো: মোটরসাইকেল যাঁরা চালান, তাঁরা বলেন কোনো জায়গায় এটি থামালেই ট্রাফিক পুলিশ অবৈধ পার্কিংয়ের কথা বলে মামলা দিচ্ছে। এই অভিযোগ সম্পর্কে আপনার কী মত?

মো. মুনিবুর রহমান: পার্কিংয়ের অপর্যাপ্ততা আছে। অপরিকল্পিত নগরায়ন হয়ে এসেছে গত ৫০ বছর ধরেই। আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় পার্কিং ব্যবস্থা কেমন হবে, সে সম্পর্কে চিন্তা করা হয়নি। নগরে লোকসংখ্যা ও তাদের ব্যস্ততা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমস্যাও প্রকট হয়েছে। এখন বড় বড় যেসব স্থাপনা হচ্ছে, সেখানে এই সমস্যা নেই বললেই চলে। আপনি যমুনা ফিউচার পার্ক বলুন কিংবা বসুন্ধরা, সেখানে কিন্তু কেউ সমস্যায় পড়ছে না। ভূ-গর্ভস্থ পার্কিংয়ের ব্যবস্থা আছে। অন্য অনেক জায়গায় নেই। এখন সমস্যা হচ্ছে যেখানে–সেখানে যানবাহন পার্ক করলে যানজট হচ্ছে। অনেক সময় ট্রাফিক পুলিশের ওপর নির্দেশনা থাকে যেন যানবাহন নির্বিঘ্নে চলতে পারে। সেক্ষেত্রে আইন অমান্যকারী যানবাহনকে জরিমানা করা ছাড়া উপায় নেই।

প্রথম আলো: মোটরসাইকেল পেলেই ট্রাফিক পুলিশের মধ্যে জরিমানা করার আগ্রহ বেশি দেখা যায়, এই অভিযোগ উঠছে।

মো. মুনিবুর রহমান: জরিমানা করা হয় সচেতন করতে। একবার–দুবার জরিমানা করলে ট্রাফিক আইন মানবেন, এমনটাই আশা করা হয়। তা–ও তো সবাই মানেন না, ভুলে যান। অনেকেই বারবার আইন ভঙ্গ করেন। সেক্ষেত্রে জরিমানা ছাড়া বিকল্প কী?

প্রথম আলো: যেখানে সেখানে পার্কিং করলেই মোটরসাইকেলকে জরিমানা করা হয়, বাসগুলো তো নিয়মিত রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে...

মো. মুনিবুর রহমান: ঢাকার কিছু জায়গায় পরিকল্পিতভাবে বাস বে করা হয়েছে। সেখানে ভেতরের দিককার রাস্তায় বাস দাঁড়িয়ে থাকার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একটি বাস ছেড়ে মূল সড়কে উঠবে, তার জায়গায় আরেকটি বাস আসবে—এমনভাবে চলার কথা। তবে এর বাইরেও বাসগুলো যে সব সময় আইন মেনে চলে, তা–ও না। আমাদের গাড়িচালকেরা কোন আর্থসামাজিক অবস্থা থেকে এসেছেন, তাঁদের লেখাপড়া কী—সেটাও বিবেচনা করুন। বিদেশে তো উচ্চশিক্ষিত লোকজন ট্যাক্সি চালান। শিক্ষিত লোকদের মধ্যে আইন মেনে চলার প্রবণতা বেশি। আমাদের এখানেও যে আইন মানার ব্যাপারে অগ্রগতি নেই, তা বলব না। কিছু অগ্রগতি এখানেও আছে। বিশেষ করে শিক্ষিত গাড়িচালক যাঁরা, তাঁদের সচেতনতাও বেশি।

প্রথম আলো: সব যানবাহনের মধ্যে মোটরসাইকেলকে পুলিশ নিশানা করছে? এই অভিযোগ অনেকে করছেন...

মো. মুনিবুর রহমান: সত্য নয়। ঢাকা শহরের একেক জায়গায় একেক রকম যানবাহন বেশি। কোথাও যন্ত্রচালিত নয়, এমন যানবাহন বেশি। আবার কোথাও যন্ত্রে চলে, এমন বাহন বেশি। যে সড়কে যে বাহন বেশি আইন ভাঙে, সে সড়কে সেই বাহনের বিরুদ্ধে মামলাও তত বেশি হয়।

প্রথম আলো: মানে আপনি বলতে চাইছেন মোটরসাইকেলকে নিশানা করে মামলা দেওয়া হয় না?

মো. মুনিবুর রহমান: না। যেমন ওয়ারীতে যন্ত্রচালিত যানবাহন কম, রমনায় বেশি। আবার ধানমন্ডি–হাজারীবাগে দুই ধরনের বাহনই আছে। তবে হ্যাঁ, মোটরসাইকেল আছে সব জায়গাতেই। আর জায়গা কম লাগে বলে তাদের মধ্যে ফাঁক পেলেই ঢুকে পড়া, উল্টো দিকে চালানো, ফুটপাতে ওঠানোর একটা চেষ্টা দেখা যায়। সব সময় জরিমানা করা হয় না। যাঁরা নতুন মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন, অনেক সময় তাঁদের সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়। আবারও বলি, জরিমানা করা হয় সচেতন করার জন্য। শাস্তির পরও সবাই ঠিক হন না। কেউ কেউ ইচ্ছেমতো যানবাহন চালান। কিন্তু পুলিশকে তো রাস্তা পরিষ্কার রাখতে হবে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন