ক্ষমা চাইতে ইমরান খান বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ
একাত্তরের গণহত্যা ও শহীদ বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের অপরাধে পাকিস্তানকে বাংলাদেশের কাছে রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।
আজ সোমবার দুপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে পাকিস্তানকে বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সমাবেশ করে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। সমাবেশে অংশ নেন সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজসহ মঞ্চের বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মীরা।
সমাবেশ শেষে বেলা আড়াইটার দিকে পাকিস্তান দূতাবাসের কূটনৈতিক জোনের পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি) আশরাফুল ইসলামের কাছে স্মারকলিপি পৌঁছে দেয় মঞ্চের একটি প্রতিনিধিদল। আশরাফুল এটি পাকিস্তান দূতাবাসে পৌঁছে দেবেন বলে জানিয়েছেন মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদ।
এর আগে সমাবেশে অংশ নিয়ে সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘২০০১ সালের নির্বাচনের আগে পাকিস্তান দূতাবাস বিএনপিকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়েছিল। বিএনপির সঙ্গে পাকিস্তান দূতাবাস ও সরকারের সম্পর্ক নতুন কিছু নয়, এটি দৃশ্যমান। বিএনপি ভাস্কর্য ইস্যুতে মৌলবাদীদের উসকাচ্ছে; এখানে বিএনপি রয়েছে, পাকিস্তান দূতাবাসও রয়েছে। আমাদের দাবি, পাকিস্তান দূতাবাসের ওপর কঠিন নজরদারি রাখতে হবে এবং তাদের দূতাবাসকে সংক্ষিপ্ত করতে হবে। এরা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তান যেহেতু বাংলাদেশকে এখনো মেনে নিতে পারছে না, এখানে তাই তাদের দূতাবাস রাখতে হলে সংক্ষিপ্ত করতে হবে।’
সমাবেশ শেষে পাকিস্তান দূতাবাস ঘেরাও করতে টিএসসি থেকে মিছিল বের করে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। মিছিলটি শাহবাগে জাতীয় গণগ্রন্থাগারের সামনে পৌঁছালে পুলিশ বাধা দেয়। পরে ঘেরাও কর্মসূচি স্থগিত করে স্মারকলিপি দিতে পাকিস্তান দূতাবাসের উদ্দেশে যায় মঞ্চের ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল। প্রতিনিধিদলে ছিলেন আইনজীবী তুরিন আফরোজ, ভাস্কর্যশিল্পী রাশা, মঞ্চের কেন্দ্রীয় সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক এ ইউ জেড প্রিন্স ও সনেট মাহমুদ।