এরপর সন্ধ্যায় ডিবি কার্যালয়ে যান আশিকুরের বাবা সিরাজুল ইসলাম ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুহাম্মদ রুহুল আমিন। পরে অধ্যাপক রুহুল আমিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ডিবি আশিকুর রহমানের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিল। কারণ, সে যে এলাকায় থাকে, সেখানে হয়তো কোনো বিষয় বা গুরুত্বপূর্ণ কিছু থাকতে পারে। হি ওয়াজ ওয়েল ট্রিটেড (তাঁর সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা হয়েছে)। ডিবি আমাকে বলেছে, আশিকুর খুব ভালো ছেলে।’

চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘ডিবি শুধু কথা বলতে চেয়েছে, কিন্তু ক্যাম্পাসে একটা ভুল খবর ছড়িয়ে গেছে। আমি ও আশিকুরের বাবা আজ সন্ধ্যায় ডিবি কার্যালয়ে গিয়েছিলাম। আমাদের সঙ্গে ডিবির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অত্যন্ত ভালো ব্যবহার করেছেন। মুরব্বি হিসেবে তাঁকে আমাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।’

ঘণ্টাখানেক আগে আশিকুর নিরাপদে বাসায় ফিরে গেছে জানিয়ে চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছে। তাদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। আমাদের বিভাগের শিক্ষকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা।’

এদিকে আশিকুর ও তাঁর বাবার মুঠোফোনে কল করে দুটি ফোনই বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে বিকেলে আশিকুরের বাবা প্রথম আলোকে বলেন, তিনি একটি বেসরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। তাঁর এক ছেলে ও দুই মেয়ে। একটি মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগে প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত। দ্বিতীয় সন্তান আশিকুর। তাঁদের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ সদরে।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘রোববার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও আশিকুরের সহপাঠীদের কাছ থেকে আমি জানতে পারি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ডিবির পরিচয় দিয়ে আশিকুরকে শনিবার রাতে আজিমপুরের ভাড়া বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আশিকুরের সঙ্গে যে বড় ভাইরা থাকতেন, তাঁদের কাছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক সদস্য এএসপি তুহিন নামে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি তাঁর মুঠোফোন নম্বরও দিয়ে যান। কিন্তু এখন ফোন করা হলে অস্বীকার করে বলছেন যে, তিনি অপারেশনে ছিলেন না। ঘটনা শুনে আজ সকালেই সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছি।’

আশিকুরের বাবা আরও বলেন, ‘ওই ঘটনায় শাহবাগ ও লালবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ জিডি গ্রহণ করেনি। তারা আমার ছেলেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তুলে নিয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে বলেছে।’
এদিকে আশিকুরের সঙ্গে আজিমপুরে একই বাসায় থাকেন তাঁর বন্ধু মো. মুহসীন।

তিনি বলেন, ‘শনিবার রাতে আমাদের পাশের বাসা থেকে একটি সংগঠনের সদস্য সন্দেহে কয়েকজনকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন আশিকুরকেও তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। আশিকুরকে নিয়ে যাওয়া বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কাছে জানতে চাইলে তাঁরা আমাদের বলেন, আশিকুরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়া হবে।’

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন