default-image

খেলার মাঠে আর কোরবানির পশুর হাট বসবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। তিনি বলেছেন, দক্ষিণ সিটির খেলার মাঠগুলো সব সময় খেলার উপযোগী থাকবে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রধান কার্যালয় নগর ভবনের মেয়র মোহাম্মদ হানিফ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র তাপস এ কথা বলেন। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে আন্তওয়ার্ড ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২১ উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র বলেন, খেলার মাঠে আর কোরবানির পশুর হাট বসবে না। অন্য কোনো অনুষ্ঠানও হবে না। খেলার মাঠ সব সময় শুধু খেলার উপযোগী করে রাখা হবে। সারা বছর সেখানে বিভিন্ন ক্রীড়া অনুষ্ঠান হবে। মাঠে শিশুরা খেলাধুলা করবে। বয়স্করা যাতে মাঠে হাঁটাহাঁটি করতে পারেন, এখন থেকে তেমন কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ সিটির মেয়র বলেন, অনেক মাঠ দখল হয়ে গেছে, সংকুচিত হয়ে গেছে। সেগুলো উদ্ধার করা হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

মেয়র তাপস বলেন, সিটি করপোরেশনের ইতিহাসে এই প্রথম আন্তওয়ার্ড ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবার ওয়ার্ডভিত্তিক ক্রিকেট ও ফুটবল খেলা হবে। আগামী বছর থেকে পাঁচটি খেলা অনুষ্ঠিত হবে। বাকি তিনটি খেলা হলো বাস্কেটবল, ব্যাডমিন্টন ও কাবাডি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দক্ষিণ সিটির ৭৫টি ওয়ার্ডের সমন্বয়ে গঠিত ৬৩টি ফুটবল দল এবারের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। আর ক্রিকেটে অংশ নেবে ৬৪টি দল। ঢাকার ১৩টি মাঠে এই খেলা অনুষ্ঠিত হবে।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ক্রিকেট ও ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন দলকে পাঁচ লাখ টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হবে। উভয় ক্ষেত্রে রানার্সআপ দল পাবে তিন লাখ টাকা পুরস্কার।

আয়োজন ছোট হলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সম্পৃক্ততায় তার কলেবর সমৃদ্ধ হয়েছে বলে জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র। এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় স্পন্সর করেছে মধুমতি ব্যাংক লিমিটেড ও ওরিয়ন গ্রুপ।

মেয়র তাপস বলেন, এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে ওয়ার্ড থেকে খেলোয়াড় তৈরির উদ্যোগের সূচনা হতে যাচ্ছে। ওয়ার্ডভিত্তিক এই আয়োজনের মধ্য দিয়েই জাতীয় পর্যায়ে খেলোয়াড় বের হয়ে আসবে।

মেয়র তাপস বলেন, ঢাকায় ২ কোটি ১০ লাখ মানুষের বাস। কিন্তু সেই অর্থে ঢাকা থেকে খেলোয়াড় বের করা যায়নি। দীর্ঘদিন এ বিষয়ে কোনো পৃষ্ঠপোষকতা ছিল না। তাঁরা সেই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। ওয়ার্ডভিত্তিক অনেক খেলোয়াড় বেরিয়ে আসবে বলে তাঁরা আশাবাদী। পরে সেই খেলোয়াড়েরা জাতীয় পর্যায়ে খেলার সুযোগ পাবেন।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন আহমেদ, দক্ষিণ সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম আমিন উল্লাহ নূরী, সচিব মো. আকরামুজ্জামান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। দক্ষিণের বিভিন্ন ওয়ার্ডর কাউন্সিলর ও সংস্থার অন্য কর্মকর্তা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন