বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জনস্বাস্থ্যবিদ ও সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা মুশতাক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সিরিয়াস উদ্যোগ নেই। প্রতিরোধের জন্য এসব কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ মানুষের সমন্বয় লাগবে। এর বড় অভাব।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার বাইরে ১৪ জন রোগী ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এখন দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু নিয়ে ৭০৫ জন রোগী ভর্তি আছেন। এর মধ্যে ঢাকার ৪৬টি সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীর সংখ্যা ৫৪৫।

চলতি বছর গত মে থেকে ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হয়। মে মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন ৪৩ জন। জুনে এ সংখ্যা বেড়ে হয় ২৭২। জুলাইয়ে রোগীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বাড়তে থাকে। ওই মাসে রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ২৮৬। আগস্টে হয় ৭ হাজার ৬৯৮। ওই মাসে এ বছরের এযাবৎকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৯ জন প্রাণ হারান ডেঙ্গুতে। আর সেপ্টেম্বরে রোগীর সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৮৪১। চলতি বছর সর্বোচ্চ আক্রান্ত হয় এ মাসেই। গত মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমতে থাকে। অক্টোবরে রোগী ছিল ৫ হাজার ৪৫৮ জন। আর চলতি নভেম্বরে গত পাঁচ দিনে রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭২৫। এই কদিনে মারা গেছেন তিনজন।

অধিদপ্তরের হিসাবে দেখা যায়, চলতি বছরের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত রোগীর সংখ্যা ২৪ হাজার ৩৮০ জন। এ বছর ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৯৫ জন। মোট আক্রান্ত রোগীর মধ্যে ২০ হাজার ৮১৬ জনই ঢাকার।

ঢাকায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিয়ে মুশতাক হোসেন বলেন, ‘জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি নগরে খুবই অবহেলিত। দুই সিটিসহ বড় সিটিতে কীটতত্ত্ববিদ নিয়োগ দিতে হবে। তাঁরা পরামর্শ দেবেন, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজেট ও জনবলের অভাব আছে। তারা জরিমানা করার যে উপায় বেছে নিয়েছে, তা খুব কার্যকর নয়। সাধারণ মানুষকে এ কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ফজলে শামসুল কবীর প্রথম আলোকে বলেন, ‘দক্ষিণে রোগীর সংখ্যা খুবই কম। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছি। গত আগস্ট মাসে নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু করার পর থেকে এটি বেশ কার্যকর হয়েছে।’ তিনি বলেন, এ মাসের পাঁচ দিনে এ সিটিতে মাত্র ৪৫ জনই রোগী আছে। আগস্টে মোট আক্রান্ত রোগীর মধ্যে দক্ষিণের রোগী ছিল ৩৮ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে ২০, অক্টোবরে ১১ শতাংশ।

আর উত্তর সিটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জোবায়দুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এবার একটু বেশি সময় ধরে ডেঙ্গু হচ্ছে। এর একটি কারণ, গত পাঁচ–ছয় দিন আগেও বৃষ্টি হয়েছে। বর্ষাকাল দীর্ঘায়িত হলে মশার প্রকোপ বাড়ে। এবারও তেমনটি হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সিটির মেয়রসহ সবাই মিলে মাঠে ছিলাম এবং আছি। সাধারণ মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করা হয়েছে। অনেকেই সচেতনভাবে তা মানছে, কেউ মানছে না। তবে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।’

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন