সকাল পৌনে সাতটা থেকে বাস ছাড়া শুরু হয়েছে জানিয়ে মাইদুল হাসান বলেন, প্রতি এক ঘণ্টা পরপর বেলা সোয়া ১১টার মধ্যে চারটি বাস ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু যাত্রীর অভাবে ছাড়া হয়েছে মাত্র তিনটি। যে কয়টা বাস ছাড়া হয়েছে, প্রতিটিতেই ছয়-সাতটি করে আসন খালি গেছে।

পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদ্‌যাপনে গ্রামের বাড়ি রাজশাহী যাচ্ছেন সিয়াম আহমেদ। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তিনি। বলেন, ‘কাজ গুছিয়ে বাসা থেকে বের হতে দেরি হয়ে গেছে। আসার সময় ভাবছিলাম, বাসের টিকিট পাব কি না, কিন্তু টার্মিনালের এসে দেখি সবকিছু একদম ফাঁকা। কোনো চাপ নেই।’

পরে গাবতলী থেকে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে নিউমার্কেটের উদ্দেশে মোটরসাইকেলে করে রওনা হন এই প্রতিবেদক। নিউমার্কেটে পৌঁছাতে সময় লাগে মাত্র ১৩ মিনিট। রাস্তা একেবারেই ফাঁকা ছিল। পথে শুধু কল্যাণপুর, শ্যামলী ও সায়েন্সল্যাব বাসস্ট্যান্ডে মোটরসাইকেলের গতি কিছুটা কমাতে হয়েছে।
সড়কের সব কটি সিগন্যালেই ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। অতিরিক্ত গতির কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে সড়কে বেশ কিছু জায়গায় প্রতিবন্ধক বসিয়েছে ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশ।

default-image

সায়েন্সল্যাব ট্রাফিক সিগন্যাল এলাকার এক পুলিশ সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, ‘দায়িত্ব পালন করছি, কিন্তু কোনো চাপ নেই। রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা একেবারেই কমে গেছে। তবে নিউমার্কেটে কেনাকাটার জন্য অনেকেই রিকশায় করে যাচ্ছেন।’

বেলা সাড়ে ১১টার পর নিউমার্কেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ফুটপাত ও সড়কের সামনে খোলা জায়গায় অস্থায়ী দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি রয়েছে। তবে বিপণিবিতানের ভেতরে ব্যবসায়ী ও বিক্রেতারা অলস সময় পার করছেন। কেউ কেউ জিনিসপত্র গুছিয়ে নিচ্ছেন। অনেকেই আবার নিজেদের মধ্যে গল্প-আড্ডায় ব্যস্ত ছিলেন।

ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, এখন পর্যন্ত ক্রেতা একদমই নেই বলা যায়। লম্বা ছুটিতে অনেকেই আগেভাগেই বাড়ি চলে গেছেন। এখন যাঁরা ঢাকায় ঈদ করছেন, তাঁদের কেউ কেউ টুকটাক কেনাকাটা করতে মার্কেটে আসছেন। বিকেল থেকে ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়ার আশা করছেন বলে জানান তিনি।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন