বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অনেকক্ষণ অপেক্ষার পরে একজন গণমাধ্যমকর্মীর সহায়তায় আমেনা বেগম একটি মাইক্রোবাসে উঠতে পারেন। কিন্তু তাঁকে গুনতে হয় প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া।

বেলা ১১টার দিকে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাওয়ার জন্য গাবতলী এসেছেন অনেকেই। বাস না পেয়ে গাবতলী থেকে বিকল্প উপায়ে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মাইক্রোবাসে গন্তব্যে রওনা দিচ্ছেন অনেকে। অবশ্য ভাড়া বেশি চাওয়ায় হতাশ হচ্ছেন বেশির ভাগ যাত্রী।

default-image

রাজধানীর পুরান ঢাকা থেকে গাবতলী এসেছেন ইফতেখারুল ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, মোটরসাইকেলে ২৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে গাবতলী এসেছেন তিনি। যাবেন রংপুর সদর উপজেলায়। গাবতলী থেকে কিছু মাইক্রোবাস রংপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে। তাঁর কাছে একটি মাইক্রোবাসের চালক ভাড়া চেয়েছেন ১ হাজার ২০০ টাকা। বসতে হবে পেছনের আসনে। তাই তিনি রাজি হননি। আরও কম ভাড়ার জন্য অপেক্ষা করছেন।

সাধারণত, গাবতলী থেকে রংপুরের ভাড়া ৫০০ টাকা বলে জানান ইফতেখারুল ইসলাম। তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় চাকরির পরীক্ষা দিতে আসেন তিনি। গতকাল পরিসংখ্যান ব্যুরোর পরীক্ষায় অংশ নেন। আজ যদি রংপুর যেতে না পারেন, তাহলে ঢাকাতেই থেকে যাবেন তিনি।

ইফতেখারুল আরও জানান, তাঁর মতো অনেক শিক্ষার্থীই আজ ঢাকা ত্যাগ করতে গাবতলী এসেছেন। অনেকেই কয়েক গুণ ভাড়ায় রওনা দিয়েছেন। আবার অনেকেই তাঁর মতো এখনো অপেক্ষা করছেন।

গণপরিবহন বন্ধ থাকায় গাবতলী এলাকায় আজ ব্যক্তিগত গাড়ি ও মাইক্রোবাস বেশি ছিল। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা যাত্রীদের তারা গাড়িতে তোলার চেষ্টা করে। তবে ভাড়া হাঁকা হচ্ছে কয়েক গুণ।

রাজধানীর মিরপুর ১, ২ , ১০, ১১, নম্বর ও কল্যাণপুর ঘুরে দেখা গেছে, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সরকারি অফিস বন্ধ থাকলেও বেসরকারি কর্মজীবীরা রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় গন্তব্যে যাচ্ছেন। ভাড়া বেশি চাওয়ায় অনেকেই হেঁটে রওনা দিয়েছেন।

মিরপুরের গোলচত্বর এলাকায় ইকবাল হোসেন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। জানান, গুলিস্তানের একটি মার্কেটে কাজ করেন তিনি। পরিবহনের অপেক্ষায় প্রায় দেড় ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছেন গোলচত্বর এলাকায়। পরে মুঠোফোনে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, অপেক্ষার পর তিনি বিআরটিসির একটি বাসে উঠতে পেরেছিলেন। বাসে অনেক ভিড় ছিল। যেতে সময় লেগেছে দেড় ঘণ্টা।
গত বুধবার মধ্যরাত থেকে ডিজেলের মূল্য লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। পরিবহন সূত্রগুলো বলছে, জ্বালানি তেলের নতুন মূল্যহার কার্যকর হওয়ার পর পরিবহন খাতের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেন। এসব বৈঠক থেকে সরকারিভাবে ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার আগপর্যন্ত পরিবহন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

তবে বেশির ভাগ সংগঠনের নেতারা সরকারপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাই তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্মঘট ঘোষণা করতে চান না। অনানুষ্ঠানিকভাবে বাস, ট্রাকসহ বাণিজ্যিক যানবাহন না চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। সরকারিভাবে ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে গতকাল সকাল ছয়টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে গণপরিবহন ও পণ্যবাহী যানবাহন বন্ধ থাকবে বলে এই খাতের মালিক-শ্রমিকেরা জানিয়েছেন।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন