ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআইয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁরা পারভীনের নাম-পরিচয় জানতে পারেন। তাঁর বাড়ি দিনাজপুরের চিরিরবন্দর আলোকডিহি সরকার পাড়া এলাকায়। তাঁর বাবার নাম রমজান আলী। স্বামীর নাম মোমিনুল হক। ছয় বছর আগে জীবিকার সন্ধানে স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় আসেন পারভীন। স্বামী রিকশা চালানো শুরু করেন। আর পারভীন গৃহকর্মীর কাজ নেন। পারভীনকে মাসে সাত হাজার টাকা করে পারিশ্রমিক দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দেওয়া হতো মাত্র এক হাজার টাকা করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, গৃহকর্তা জসীমুলের সঙ্গে পারভীনের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক আছে, এমন সন্দেহ করতেন গৃহকর্ত্রী সামিনা হাসান। এ সন্দেহের জেরে ১ ডিসেম্বর সকালে পারভীনকে লাঠি দিয়ে বেদম মারধর করেন সামিনা হাসান। পারভীন জ্ঞান হারালে তাঁর বুকে জোরে চাপ দেওয়া হয়। এতে বুকের হাড় ভেঙে পারভীনের মৃত্যু হয়। হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে গাড়িচালক রমজান আলীর সহায়তায় তুরাগের দিয়াবাড়ির ঝাউবনে পারভীনের লাশ ফেলে দেওয়া হয়।

পিবিআই জানায়, পারভীনের স্বামী মোমিনুল ঢাকায় রিকশা চালান। পারভীন ওই বাসায় কাজ নেওয়ার পর তাঁর সঙ্গে মোমিনুলকে দেখা করতে দেওয়া হতো না। এ নিয়ে তিনি গুলশান থানায় গত অক্টোবরে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।