রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, রায়হান মামলায় অভিযোগ করেছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা এক যুগ ধরে প্রতিষ্ঠানটির সদস্য। তাঁরা ১২ লাখের বেশি টাকা জমা দিয়েছেন। পাঁচ হাজারের বেশি সদস্যের কাছ থেকে প্রতারণা করে ৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি বিদেশে পালানোর চেষ্টায় ছিলেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, রায়হান গত বছরের ৪ নভেম্বর খিলগাঁওয়ের তালতলা সিটি সুপারমার্কেটের দোতলায় গ্রিন বার্ডের কার্যালয়ে যান। সেখানকার কর্মীদের কথার ফাঁদে পড়ে তিনি ৫০ হাজার টাকা জমা দিয়ে সমিতির সদস্য হন। এরপর বিভিন্ন সময় তিনি আমানতøহিসেবে আরও ৩৫ হাজার টাকা দেন। সেই হিসাবে তিনি লভ্যাংশসহ ৯৫ হাজার টাকা পাবেন। কিন্তু পাওনা টাকা চাইলে আলাউদ্দিন আহমেদ টালবাহানা শুরু করেন। বারবার সময় নেওয়ার পরও তিনি টাকা দেননি। পরে জানতে পারেন, প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া টাকা আলাউদ্দিন তাঁর স্ত্রী, মা ও ভাইসহ আত্মীয়স্বজনের ব্যাংক হিসাবে জমা রেখেছেন। ঢাকায় বাড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাটসহ বিভিন্ন স্থানে জমি কিনেছেন। রায়হানের মা সুফিয়া বেগম, বড় বোন জেসমিন আক্তার ও মেজ বোন নাজমুন নাহার অনেক আগে থেকেই সমিতির সদস্য। তাঁদের চারজনের মোট ১২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ও বিক্ষোভের মুখে মঙ্গলবার খিলগাঁও থেকে আলাউদ্দিন আহমেদকে আটক করে রামপুরা থানা-পুলিশ। তবে প্রথম দিকে কেউ মামলা করতে রাজি না হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। আজ এ ঘটনায় একটি মামলা হয়। সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে ১০ দিনের রিমান্ডে চেয়ে আদালতে হাজির করে পুলিশ। বিচারক তাঁর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পাওনা টাকা আদায়ের দাবিতে আজকেও রামপুরা থানার সামনে বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগীরা। সকালে কয়েক শ গ্রাহক থানার সামনে জড়ো হন। তাঁদের বেশির ভাগই শ্রমজীবী সাধারণ মানুষ। এর আগে মঙ্গলবার রাতে তাঁরা গ্রিন বার্ড কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। বুধবার সকালে মেরাদিয়া এলাকায় রাস্তা অবরোধ করেন ভুক্তভোগীরা। পরে তাঁরা রামপুরা থানার সামনে গিয়ে জড়ো হন।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন