বেলা তিনটার দিকে সদরঘাটে গিয়ে দেখা গেছে ঘাটে থাকা অধিকাংশ লঞ্চের ডেকই যাত্রীতে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। বিকেল পাঁচটার আগে কোনো লঞ্চ ছেড়ে যাবে না বলে জানিয়েছেন লঞ্চ কর্মকর্তারা। তবে লঞ্চগুলো যাত্রী পরিপূর্ণ হয়ে গেলে সেগুলোকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করছেন বিআইডব্লিউটিএর বন্দরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।

বিকেল পৌনে চারটার সময় সদরঘাট ছেড়ে যায় ভোলার চরফ্যাশনের বেতুয়াগামী লঞ্চ ফারহান-৫। এ সময় অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের কারণে ফারহান-৫ ও ভোলার চরফ্যাশনের আয়েশাবাগগামী কর্ণফুলী-১২ লঞ্চকে ভ্রাম্যমাণ আদালত যথাক্রমে ২০ হাজার ও ১২ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

default-image

তবে জরিমানা করে লঞ্চগুলোকে ঘাট ছাড়তে বাধ্য করা হলেও ছাদে থাকা অতিরিক্ত যাত্রী নামিয়ে দিতে দেখা যায়নি। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শোভন রাংসা।

ঢাকা থেকে মাদারীপুরগামী পারাবত-১৫ লঞ্চের ডেক যাত্রীতে পরিপূর্ণ হয়ে গেলেও ছেড়ে না যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে লঞ্চের ম্যানেজার বলেন পাঁচটার আগে লঞ্চ ছাড়া হবে না।

ডেকে আর বসার জায়গা না থাকলেও ঢাকা থেকে তুষখালিগামী লঞ্চ এমভি মানিক-১–এর সুপারভাইজার শাহাদাৎ হোসেন বলেন, এখনো লঞ্চ ভরেনি। আরও যাত্রী উঠলে ছেড়ে যাব।

ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি শাহরুখ-২ লঞ্চের যাত্রী হাবিবুর রহমান বলেন, বেলা ১টার দিকেই লঞ্চটি ভরে গেছে। কিন্তু এখনো ছাড়ার নামগন্ধ নেই।

সদরঘাটের সার্বিক ব্যবস্থাপনা পরিদর্শনে আসা বিআইডব্লিউটিএর নৌনিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘরমুখী যাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা রেখেছি।’

এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের থাকা বিআইডব্লিউটিএর সদস্যরা পরিচালককে জানান, যতই বলা হোক না কেন, লঞ্চের কর্মচারীদের কথা শোনানো যাচ্ছে না। সিঁড়ি নামিয়ে রেখে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সদস্যরা চলে যাওয়ার পর পুনরায় সিঁড়ি দিয়ে দেন কর্মচারীরা।

এদিকে সদরঘাটে ঘরমুখী যাত্রীর চাপ থাকলেও বিকেল ৪টা পর্যন্ত গুলিস্তান থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটক পর্যন্ত যানবাহনের জট দেখা যায়নি। বাসের যাত্রীরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে নেমে হেঁটেই সদরঘাটে পৌঁছাচ্ছেন। রিকশা, সিএনজি বা ব্যক্তিগত গাড়ির যাত্রীরা সরাসরি সদরঘাটে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এ কারণে এসব যানবাহনে জট তৈরি হয়েছে সদরঘাটের সামনের সড়কে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন