default-image

ঘুড়ি ওড়ালেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। পুরান ঢাকার ধূপখোলা মাঠে সাকরাইন উৎসব উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি ঘুড়ি ওড়ান। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার স্থানীয় সাংবাদিকদের সংগঠন ঢাকা সাংবাদিক ফোরাম এই আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে এক আলোচনা সভায় তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সাকরাইন উৎসব শুধু পুরান ঢাকার উৎসব নয়, বাংলাদেশের উৎসব। এটি পুরান ঢাকার ঐতিহ্য তো বটেই, পাশাপাশি আমাদের আবহমান বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ। আগে শিশু-কিশোরেরা প্রায় সবাই ছোটবেলায় ঘুড়ি উড়িয়েছে। এখন যদিওবা শহরে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ নেই; বড় শহরগুলোয় অন্তত কমে গেছে। ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বড় শহরগুলোয় এখন আর খেলার মাঠগুলো নেই। ছাদের ওপরে গিয়ে যে ঘুড়ি ওড়াব, সেই সুযোগটা অনেক সংকুচিত হয়ে গেছে। যে কারণে আমাদের তরুণেরা–কিশোরেরা আর ঘুড়ি ওড়াতে পারে না।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের সংস্কৃতিকে ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সংস্কৃতি উদ্‌যাপনে করোনা মহামারির মধ্যেও আমাদের তরুণদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। এগুলো আমাদের সংকট পাড়ি দিতে সহায়তা করে।’

বিজ্ঞাপন
default-image

বাংলার সংস্কৃতিগুলো ধরে রাখার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আকাশ সংস্কৃতির হিংস্র থাবায় আমাদের দেশের সংস্কৃতি এখন হুমকির মুখে। আমাদের দেশে আগে বিয়ে, গায়েহলুদের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের গান গাওয়া হতো। আমাদের ছেলেমেয়েরা দেশীয় সাজসজ্জা নিয়েই হাজির হতো। এখন তা বদলে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এখন আর বাংলা গান না হয়ে, অনেক সময় হিন্দি গান হয়। অনেক ক্ষেত্রে ইংরেজি গান হয়। সেখানে সাজগোজেও কিন্তু হিন্দি সিরিয়াল দেখে করা হচ্ছে। এগুলো আমাদের সংস্কৃতির ওপর প্রচণ্ড আঘাত আনছে। দেশীয় সংস্কৃতিগুলোকে ধরে রাখতে হবে।’

সংগঠনের সভাপতি শামিম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডেইলি অবজারভার পত্রিকার সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, সাবেক সাংসদ সাবিনা আকতার, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজীর আহমেদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহাম্মদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শরিফুল ইসলাম প্রমুখ।

স্থানীয় লোকজন জানান, সন্ধ্যায় থাকবে আগুন নিয়ে খেলা, আতশবাজি ও ফানুস ওড়ানো। এ ছাড়া সাকরাইন উপলক্ষে বিভিন্ন মন্দিরে হচ্ছে ‘বুড়ো-বুড়ি’ পূজা।

সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাকিল আহমেদ বলেন, ‘আজ আমরা ফেসবুক ব্যবহার করছি মাথা নিচু করে। আর ঘুড়ি ওড়াই মাথা উঁচু করে।’

আয়োজন সম্পর্কে সংগঠনের সহসভাপতি লাবণ্য ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকাইয়াদের অনেক ঐতিহ্য রয়েছে। অনেক কিছু হারিয়ে যাচ্ছে। পুরান ঢাকার ঐতিহ্য–সংস্কৃতিগুলো তুলে ধরার অংশ হিসেবে সাকরাইন উৎসব আয়োজন করা হয়েছে।

সকাল থেকেই পুরান ঢাকায় উড়ছে ঘুড়ি


বাংলাদেশের প্রাচীন উৎসবগুলোর মধ্যে সাকরাইন অন্যতম। এটি ঘুড়ি উৎসব বা পৌষসংক্রান্তি নামেও পরিচিত। পৌষ মাসের শেষে ও মাঘ মাসের প্রথম দিনে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী এই উৎসব উদ্‌যাপন করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার সূত্রাপুর এলাকায় এবং পরদিন শুক্রবার শাঁখারীবাজার এলাকায় এ উৎসব উদ্‌যাপন করা হবে।

সরেজমিনে পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, লক্ষ্মীবাজার, নারিন্দা, সূত্রাপুর ও লালবাগ এলাকায় দেখা যায়, ভোরের কুয়াশার কাটতে না কাটতেই ছাদে ছাদে শুরু হয় ঘুড়ি ওড়ানো ও ঘুড়ির কাটাকাটি খেলা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে উৎসবের জৌলুশ। বিভিন্ন বাড়ির ছাদে বাজছে আধুনিক সাউন্ড সিস্টেমে দেশি-বিদেশি গান।

স্থানীয় লোকজন জানান, সন্ধ্যায় থাকবে আগুন নিয়ে খেলা, আতশবাজি ও ফানুস ওড়ানো। এ ছাড়া সাকরাইন উপলক্ষে বিভিন্ন মন্দিরে হচ্ছে ‘বুড়ো-বুড়ি’ পূজা।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন