default-image

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দু-এক দিনের মধ্যে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।

চট্টগ্রাম নগরের দারুল ফজল মার্কেটে দলীয় কার্যালয়ে দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে সভাটি চলে। সভায় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন নগর কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী।

বিজ্ঞাপন


বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘আমরা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক বিষয়ে আজ বসেছিলাম। নির্বাচনে দলীয় সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের বাইরে যাঁরা আছেন, এখনো প্রত্যাহার করেননি, তাঁদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমরা আশা করছি আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে দলীয় সমর্থনের বাইরে যাঁরা থাকবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
মাহবুব উল আলম হানিফ আরও বলেন, চট্টগ্রামে দলের মেয়র প্রার্থী এবং দলীয় সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর বাইরে আর কেউ নির্বাচন করলে বা তাঁদের কেউ সহযোগিতা করলে, সবার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে হানিফ বলেন, ‘সহিংসতার ব্যাপারে প্রশাসনকে ইতিমধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সহিংসতা না হওয়ার জন্য প্রশাসন ব্যবস্থাও নিয়েছে। আশা করি আর কোনো সহিংসতা হবে না।’

নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হবে? এমন এক প্রশ্নের জবাবে মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় পৌরসভা নির্বাচন হয়েছে। সব নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু এবং উৎসবমুখর পরিবেশে হয়েছে। সমস্যা হলো বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়। নির্বাচনে ফল বিপক্ষে গেলে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এটা তাদের পুরোনো অভ্যাস। নির্বাচনে জিতলে নির্বাচন সুষ্ঠু, পরাজিত হলে নির্বাচন খারাপ।

বৈঠকে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালাম, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৪০টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ১৪টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে এখনো আওয়ামী লীগের কমপক্ষে ১২ জন বিদ্রোহী প্রার্থী সক্রিয় রয়েছেন। তাঁদের অধিকাংশই সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে কেন্দ্রে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন