সন্ধ্যায় রাজধানীর নিউ সুপার মার্কেট, চন্দ্রিমা সুপার মার্কেট, গাউছিয়া মার্কেট, নুরজাহান সুপার মার্কেট, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট এবং শাহবাগ এলাকার আজিজ সুপার মার্কেটে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতাদের উপস্থিতিতে জমে উঠেছে বিপণিবিতানগুলো। অনেকেই পছন্দের পোশাক কিনতে ঢুঁ মারছেন দোকানে দোকানে। বিক্রেতারাও ব্যস্ত ছিলেন ক্রেতাদের পছন্দের পোশাক দেখানোর কাজে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের আগের রাতে (চাঁদ রাতে) মূলত পুরান ঢাকার বাসিন্দারা কেনাকাটা করতে আসেন। এই সময়ে দলে দলে মার্কেটে কেনাকাটা করাই ওই এলাকার বাসিন্দাদের রীতি। ইফতারের পর থেকে শুরু করে ভোররাত পর্যন্ত চলে বেচাবিক্রি। দোকান বন্ধ করার কোনো নির্দিষ্ট সময় থাকে না। যতক্ষণ ক্রেতা থাকে, ততক্ষণ দোকান খোলা রাখা হয়।

default-image

শাহবাগ এলাকার আজিজ সুপার মার্কেটে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় সব দোকানেই কমবেশি ক্রেতার ভিড়। এর মধ্যে বেশির ভাগই ছিল তরুণ-তরুণী। তরুণদের অনেকেই শার্ট, প্যান্ট ও পাঞ্জাবি কিনছিলেন।

আজিজ সুপার মার্কেটের ঐতিহ্য নামের একটি দোকানের মালিক অনুপ কুমার পাল প্রথম আলোকে বলেন, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তেমন ক্রেতা ছিল না। দুপুরের পর থেকে ধীরে ধীরে ক্রেতার উপস্থিতি বাড়তে থাকে। বেচাবিক্রিও ভালোই হচ্ছে।

ইফতারের আগপর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার টাকার বিক্রি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নিউমার্কেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিপণিবিতানে ক্রেতাদের উপস্থিতির প্রভাব মূল সড়কে পড়েছে। ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, রিকশা ও যাত্রীবাহী বাসের কারণে সড়কে কিছুটা যানজট তৈরি হয়েছে।

ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট, নুরজাহান সুপার মার্কেট, গাউছিয়া মার্কেট ও নিউ সুপার মার্কেটের ভেতরে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেল। বিপণিবিতানগুলোর বেশির ভাগ দোকানেই বিক্রেতারা ব্যস্ত ছিলেন ক্রেতাদের পোশাক দেখানো ও বিক্রির কাজে। ঈদের নতুন জামা কেনার পাশাপাশি ক্রেতাদের অনেকেই বিভিন্ন ধরনের গয়না, হাতঘড়ি ও রঙিন চশমা কিনছিলেন।

বিপণিবিতানের বাইরে ফুটপাত ও সড়কে খালি জায়গায় বসা অস্থায়ী দোকানের বিক্রয়কর্মীদেরও ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে। বিক্রেতারা দোকানে থাকা নানান জিনিসপত্রের নাম ও দাম বলে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছিলেন। ক্রেতাদের দরদাম ও বিক্রেতাদের হাঁকডাকে মুখর ছিল পুরো এলাকা।

মোহাম্মদপুর থেকে নিউমার্কেটে কেনাকাটা করতে যান গৃহিণী সালেহা আক্তার। তিনি বলেন, ‘আসার পথে পুরো রাস্তা ফাঁকা পেয়েছি। কিন্তু মার্কেটে এসে দেখলাম পুরো ভিন্ন দৃশ্য।’ তিনি গৃহকর্মীর জন্য গয়না, নিজের জন্য ওড়নাসহ টুকিটাকি জিনিস কিনেছেন বলেও জানান।

default-image

নিউমার্কেটের একটি দোকানের বিক্রয়কর্মীর বাড়ি চাঁদপুরে। গ্রামের বাড়ি যাবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আজকে চাঁদ রাত। দোকান কখন বন্ধ করব, তার কোনো ঠিক নেই। কারণ, মার্কেটে যতক্ষণ ক্রেতা থাকে, ততক্ষণই দোকান খোলা রাখা হয়। তাই গ্রামের বাড়ির এলাকার কয়েকজন মিলে একটি প্রাইভেট কার ঠিক করে রেখেছি। দোকান বন্ধ করেই সোজা গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেব।’

ঢাকা নিউ সুপার মার্কেটে দোকান আছে ১ হাজার ২২৪টি। ওই মার্কেটের বণিক সমিতির নেতাদের ভাষ্য, চাঁদ রাতে ৫-৬ কোটি টাকার বিক্রি হয়। আর পুরো রমজান মাসে হয় কয়েক শ কোটি টাকার।

মার্কেটটির বণিক সমিতির সভাপতি সহিদ উল্ল্যাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘করোনার দুই বছর পর এবার আমরা স্বাভাবিক ব্যবসা করতে পেরেছি। চাঁদ রাতে মূলত পুরান ঢাকার একটি অংশ কেনাকাটা করতে আসে। এই রাতে অনেকেই রাত ১০টায় মার্কেটে আসেন, ৩-৪টা পর্যন্ত কেনাকাটা করেন।’

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন