default-image

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে চেয়ারে বসা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ-বিতণ্ডা হয়েছে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতির অনুসারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্যসচিবকে লাঞ্ছিতও করেন। এই ঘটনার পর সদস্যসচিবের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ তুলে কৈফিয়ত ও ব্যাখ্যা চায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধের খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত ও দলীয় নেতা-কর্মীদের সাজার প্রতিবাদে কর্মসূচি শেষে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

নয়া পল্টনে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফজলুর রহমান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্যসচিব আমানউল্লাহ আমানের অনুসারীদের মধ্যে ওই বাগ-বিতণ্ডা হয়। আমানউল্লাহ আমান বলেন, বাগ-বিতণ্ডার ঘটনার পর কার্যালয়ের ভেতরেই সবকিছুর সমাধান হয়। তবু সেখান থেকে বের হওয়ার পর কেন্দ্রীয় সভাপতির অনুসারীরা তাঁকে লাঞ্ছিত করেন।

পরে বিকেলে আমানউল্লাহকে পাঠানো কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহদপ্তর সম্পাদক আজিজুল হক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, ‘ছাত্রদলের গঠনতন্ত্র মোতাবেক সংগঠনের শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে আপনার বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সশরীরে হাজির হয়ে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতি সপেক্ষে লিখিত জবাব দেওয়ার জন্য আদেশক্রমে আপনাকে নির্দেশ দেওয়া হলো। ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আজ এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।’

এই চিঠির বিষয়ে জানতে ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

তবে সভাপতির অনুসারী একাধিক নেতা প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্যসচিব আমানউল্লাহ আমান সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ’ করেন। তখন কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকা নেতা-কর্মীদের একটি অংশ তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করলে তিনি তাঁদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করেন। এরপর নেতা-কর্মীরা আমানকে ধাওয়া দিলে তিনি দৌড়ে পাশের একটি ভবনে আশ্রয় নেন। জ্যেষ্ঠ নেতারা সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতাদের কাছে আমানের এমন আচরণের বিচার দাবি করলে অভিযোগ আমলে নিয়ে তাঁর কাছে কৈফিয়ত ও ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

জানতে চাইলে আমানউল্লাহ আমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রতিবাদ কর্মসূচি শেষে আমরা ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যাই। সেখানে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের অনুসারী কয়েকজন নেতা চেয়ারে বসেছিলেন। অথচ বয়স ও পড়াশোনায় তাঁদের জ্যেষ্ঠ কয়েকজন নেতা দাঁড়িয়ে ছিলেন। আমি ওই জ্যেষ্ঠ নেতাদের বসতে দিতে অনুরোধ করলে কেন্দ্রীয় সভাপতি (ফজলুর রহমান) আমাকে চুপ থাকতে বলেন। তখন আমি অভিযোগের সুরে কয়েকটি কথা বললে সভাপতির অনুসারীরা আমার প্রতি মারমুখী ও উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। আমাদের (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা) নেতা-কর্মীরাও প্রতিক্রিয়া দেখান। পরে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

সবাই হাসিমুখে কার্যালয় থেকে বের হওয়ার পর পাশের একটি গলি দিয়ে যাওয়ার সময় সভাপতির কয়েকজন অনুসারী আমার উদ্দেশে গালাগালি ও অপমানজনক কথাবার্তা বলতে থাকেন। এটি খুবই দুঃখজনক। পরে বিকেলে দেখতে পাই, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল আমার কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দিয়েছে।’

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন