ছাড়ের ছড়াছড়িতেও ক্রেতার দেখা কম

বিজ্ঞাপন
default-image

রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের দোকানগুলোর দিকে তাকালেই দেখা যাবে ছাড়ের ছড়াছড়ি। পোশাক থেকে শুরু করে জুতা—প্রায় সব দোকানেই নানা ছাড় চলছে। তবে বিক্রেতারা হতাশ যে এত ছাড়ের পরও আশানুরূপ ক্রেতা নেই। বেচাবিক্রি এখনো চাঙা হয়ে ওঠেনি।

ঈদুল আজহার আর এক সপ্তাহ বাকি। পোশাক কেনার প্রতি আগ্রহ ঈদুল ফিতরের মতো না হলেও এ ঈদেও ভালো বিক্রি হয়ে থাকে বলে জানান দোকানিরা। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। করোনা প্রাদুর্ভাবের জন্য দীর্ঘদিন সব বন্ধ থাকার পর মে মাসের মাঝামাঝি থেকেই দোকানপাট, শপিংমল সব চালু করে দেওয়া হয়। ধাপে ধাপে দোকান খোলা রাখার সময়ও বাড়ানো হয়। তবে ঈদ বাজারে সেভাবে ক্রেতা ফেরেনি।

আজ শুক্রবার বিকেলে ক্যাটস আইয়ের এলিফ্যান্ট রোডের আউটলেটে দেখা যায় ৪০ শতাংশ ছাড় চলছে। প্রায় সব পণ্যের ওপরেই এ ছাড়। দোকানের ম্যানেজার সৈয়দ আবু রামিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ৪০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়েছে। এরপরও ক্রেতা পাচ্ছি না। আজকে শুক্রবার, এই সময়ে ভিড় থাকার কথা। কিন্তু দোকান খালি।’ অনেক দোকানেই ছাড় চলছে, এ বিষয়ে সৈয়দ আবু রামিম বলেন, ‘মার্কেট চাঙা করতে চাইছে সবাই। বছরের এ সময়টাতে সাধারণত এত ছাড় থাকে না। কিন্তু এবার প্রায় সবাই ছাড় দিচ্ছে। পণ্য বিক্রি হোক, এটাই সবার চাওয়া।’

এলিফ্যান্ট রোডে বাটার আউটলেটেও ছাড়সহ বিভিন্ন অফার চলছে। এখানে অবশ্য কিছু ক্রেতার দেখা মেলে। মো. শাজাহান ছেলেকে নিয়ে এসেছেন জুতা কিনে দেবেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছেলের বায়না এবার তাকে জুতা কিনে দিতে হবে। নিয়ে আসতেই হলো। করোনার পরিস্থিতি কবে ভালো হবে, তার ঠিক নেই। এর মধ্যেই জীবন চালিয়ে নিতে হবে।’ বাটার এ আউটলেটের বিক্রয়কর্মী মো. রাহাত বলেন, ‘আমাদের এ ছাড়ের পরও যা বিক্রি হচ্ছে, তা রেগুলার সময়ের চেয়েও কম।’ এলিফ্যান্ট রোডে ব্র্যান্ড, নন–ব্যান্ড প্রায় সব দোকানেই ক্রেতা টানতে ছাড় চলছে।

default-image

রাজধানীর প্রগতি সরণির যমুনা ফিউচার পার্কেও ছুটির দিন হিসেবে উল্লেখযোগ্য ভিড় ছিল না। যাঁরা আসছেন, সুরক্ষাসামগ্রী পরেই ঢুকেছেন। এ শপিংমলে কথা হয় রায়হান আজিমের সঙ্গে। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তিনি। পরিবার ঢাকার বাইরে থাকে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঢাকায় আমি একাই থাকি। সবাই মাগুরা থাকে। গত ঈদ একা করেছি, সবার মন খারাপ হয়েছে। এবার যেতেই হবে। তাই কিছু কেনাকাটা করে নিয়ে যাব।’

যমুনা ফিউচার পার্কের এক নিরাপত্তাকর্মী জানান, ঈদ বা কোনো উৎসবের আগে এখানে প্রচুর ভিড় হয়। শুক্রবারে তা আরও বেশি থাকে। কিন্তু এবার লোকজন অনেক কম। এ মার্কেট ঘুরে দেখা যায় কিছু দোকান ফাঁকা, কিছু দোকানে অল্পসংখ্যক ক্রেতা পণ্য নাড়াচাড়া করছেন। জেন্টল পার্কের সহকারী আউটলেট ম্যানেজার আবু মোহাম্মদ সিদ্দিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘কাস্টমার একেবারেই কম। আমাদের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় চলছে। এই ছাড়ের জন্যই যা কিছু কাস্টমার আসছে। তবু আগের মতো না। অবস্থার উন্নতি যে কবে হবে, তা বুঝতে পারছি না।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন